খোলা চিঠি

প্রিয় ………,

অনেকদিন থেকেই ভাবছি, তোমাকে লিখবো, কিন্তু সময়ের স্রোতের সাথে আমার মনের চাওয়ার মিল নেই বলেই হয়ে উঠেনি। মন তো অনেক কিছুই চায়, কিন্তু মনের হাতি-ঘোড়ার সাথে বাস্তবের দূরত্ব অনেক বেশি বলেই, তোমার সাথে আমার এতো বেশি দূরত্ব। এই দূরত্ব কখনো ঘুচবে না জেনেও বিশ্বাস করার মতো মনের অবস্থা আমার নেই, তা তুমি ভাল করে জানো। তুমি অবশ্য অনেক কিছুই জানো, তবুও তোমার কিছু করার নেই,সেটি আমি আবার ভাল করে জানি।আমরা সবই জানি, কিন্তু জানার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে, তুমি একরকম করে জানো, অথচ সত্যিটা ঠিক তোমার জানার মতো করে নয়, এরকম মাঝে মাঝে হয়। আমার ক্ষেত্রেও সেরকম। তোমার প্রতি আমার এক অমোঘ টান আছে, সেটার কথা তোমাকে বলেছি, কিন্তু তার সত্যি কোন ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পাইনি। অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমি পারিনিই। মাঝখানে ভেবেছিলাম, ব্যস্ততা মানুষকে অনেক কিছু ভুলিয়ে রাখতে পারে, সেই চেষ্টা করেছিলাম, তা তুমি ভাল করে জানো, কিন্তু কিছুই হলো না। মন থেকে একদম মুছে ফেলতে পারলাম কই। মানুষের অবচেতন মন বলে একটা ব্যপার থাকে, সেই মনটি যা সত্যি মনে করে তা তোমাকে দিয়ে করিয়ে নিবে, এটি চরম সত্য ব্যপার। মাঝে মাঝে ভাবি, এই আমার আমি এর উপর আমার কর্তৃত্ত এতো কম কেন।আমি মানুষটা সত্যিই কি খুব খারাপ? প্রশ্ন! উত্তর জানা নেই।

মাঝে মাঝে আমি ভাবি, আমি আসলে কি চাই। সত্যি বলতে কি আমি আসলে তোমার কাছে কিছুই চাই না। কিছুই চাওয়া নেই আমার কাছে। তোমাকে এক সময় বলেছি, আমি তোমাকে অধিকার করতে চাই, ব্যপারটি সত্যি নয়, আমি আসলে তোমার কাছে নিজেকে সপে দিতে চেয়েছিলাম। আমি জানি না, তোমার মনের অবস্থা আমি বুঝতে পারিনিই সত্যি, তবে বুঝতে যে চাইনি, এটি এমন কিন্তু নয়। আমি তোমার মনের উঠোন দিয়ে সত্যিই হেঁটে আসতে চেয়েছি, কিন্তু তুমি যদি কপাট বন্ধ করে রাখো, তাহলে কিভাবে আমি যাই। কপাট খোলার মতো সাহস যে আমার ছিল না। তুমি হয়তো চেয়েছিলে, আমি নিজেই তোমার কপাট খোলে ঢুকে পরি, কিন্তু আমি যে ভেবেছিলাম অন্যভাবে। আমর ভাবনায় ভুল ছিল হয়তো। কি আর করবো, যা হয়েছে তা তো হয়ে গেছে, এখন নতুন করে কিছু হওয়ার নেই, তোমার মনের উঠোনের কর্তৃত্ত আমার নেওয়া হলো না। অন্য কোন রাজকুমার এসে যখন এই স্থান দখল করে নিবে, তা দেখে আমার খুব খারাপ লাগবে, এর চেয়ে বেশি কিছু আর হবে না। তবে নিশ্চয় তোমার খুশি দেখে আমিও খুশি হবো।

তবে এখনো মাঝে মাঝে মনের মাঝে স্বপ্ন বুনি। জানি এসব মিথ্যে স্বপ্ন। তবুও, অন্তত্য স্বপ্নের সময়টুকুতো ভাল লাগে।

সত্যি আমি তোমাকে কখনো ভুলতে পারবো না। কখনো না। তবে তুমি প্রশ্ন করতে পারো, কেন আমি তোমাকে মনের মধ্যে এমন করে বসিয়েছি। এর উত্তর খুব কঠিন। আমি দিতে পারবো না। মানুষের মন খুব জটিল। তুমি তো তুমি। তুমি তোমার তুমিতে তুমিময় হয়ে থাকো। তুমি কখনো আমার তুমি হয়ো না।আমি স্বপ্ন নিয়ে থাকবো। স্বপ্ন যদি কখনো বাস্তব হয়ে যায়, তখন তো সেই স্বপ্নের মৃত্যু হয়। আমি আমার স্বপ্নের মৃত্যু চাই না।

তুমি বরং আমার স্বপ্নেই থাকো। স্বপ্নের মাঝেই আমি তোমার মনের উঠোন দিয়ে হেটে আসবো। স্বপ্নে তোমার সাথে কথা বলবো। স্বপ্নে তোমার সাথে ঘুরে আসবো রোদেলা দুপুরে আকাশে সূর্য মাথায় নিয়ে। জোছনা রাতের সাথী হবে তুমি। বিশাল দিগন্তের উন্মুক্ত মাঠে আমি আমার স্বপ্নের ঘুড়ি উড়াবো….আমার একাকী কল্পনার দিগন্ত রেখার ধূলোময় মেঠো পথ ধরে হেটে যাবো, পাশে তুমি রবে, কল্পনায়, আমার অস্তিত্বে….

ভালো থেকো তুমি, তোমার তুমি হয়ে।

ইতি,
ভোরের শিশির কিংবা শরতের মেঘ।

>আমার একুশ

>হঠাৎ করে ভাবতে বসলাম। বাহ! আমি অনেক বড় হয়ে গেছি। ২১ হয়ে গেল ইতিমধ্যে। কেমন করে হলো, কিকরে হলো, কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। এইতো সেদিন যখন অনেক ছোট ছিলাম, তখন আমার বয়স অনেক কম ছিল। আম্মুর বকা শুনতে হবে বলে টেবিলে বসে থাকা, কিন্তু সুযোগ পেলেই অন্যকিছু করা, বেশি ছিল দিনগুলি। এখন আম্মুর বকা নেই, কিন্তু টেবিল আমাকে ছাড়ে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেবিলে বসে কাজ করতে হয়, যত দিন যাচ্ছে, কাজের পরিমাণ বাড়ছে তো বাড়ছেই। বড় হচ্ছি আর পেছনে ফেলে আসা দিন গুলির কথা মনে করে মাঝে মাঝে কষ্টও হচ্ছে, আবার কখনো আনন্দও হচ্ছে। কষ্ট হয় এই ভেবে, সেই সোনালী দিন গুলো আর ফিরে আসবে না, আর আনন্দ হয় এই ভেবে যত বড় হবো, তত নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে।

যাহোক, আমার জন্মদিন নিয়ে কখনো কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। এই একুশে এসেই নেই। কিন্তু কেন জানি এই জন্মদিনটি খুব অন্যরকম হলো। অন্যরকম হওয়াটার প্রক্রিয়াটিও অন্যরকম। এর মূল কারণ হলো আমার বন্ধুরা। আমার মনে হয়, একজন মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সঞ্চয় হলো তার বন্ধু। আমার এই একুশে অনেক বন্ধু পেয়েছি। এদের অকৃতিম ভালবাসা আমাকে আনন্দ দেয়, এবং আমি খুব গর্ভবোধ করি, নিজেকে অনেক সুভাগ্যবান মনে করি।

যাহোক এবারের একুশের দিনটি কেমন কাটলো তা বর্ণনা করি।

সাধারণত সবাই তার জন্মদিনের রাতে অপেক্ষা করে থাকে তার বন্ধুরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবে। কিন্তু আমি এই অপেক্ষা কখনো করি না। এই রাতেও করি নাই। কারণ আমি সবার জন্মদিন ভুলে যাই, সুতরাং আমার জন্মদিন যে সবাই মনে রাখবে এমনটা আশা করা খুব বোকামী। কিন্তু আমার বন্ধুরা অবশ্যই আমার চেয়ে অনেক ভাল, তারা মনে রাখে। যাহোক আমি সেদিন এগারটা সময় ঘুমিয়ে গেছি। ঘুম থেকে উঠেছি রাত চারটায়। উঠেই হাত মুখ ধুয়ে রাতের খাবার খেয়ে কম্পিউটারের সামনে বসলাম। মোবাইল চেক করলাম। কিন্তু দেখলাম মাত্র দুইটা এসএমএস এসেছে। যাহোক, অখুশি হওয়ার কিছু নেই। ফেইসবুক খুলে বসলাম। বাহ, ওয়ালে কিছুই নেই। নো উয়িস। কি আর করা। হালকা দুঃখবোধ হলো, যদিও আমার যুক্তিতে এটি হওয়ার কথা ছিল না। ধরে নিলাম সবাই ভুলে গেছে। আর মজার বিষয় হলো, আমি আমার ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে জন্মদিন হাইড করে রেখেছিলাম কোন একসময়। কেন ভুলে গেছি।
যাহোক, কি আর করা। তখন মনে হলো, আমার জাভা প্রযেক্ট করা হয় নাই। প্রযেক্ট হলো, একটা ওয়েব এপিআই বানতে হবে, যার কাজ হবে, ডাটাবেইস এ ফাইল আপলোড করা, এবং ডাউনলোডিং এর সুবিধা দেওয়া। অর্থাৎ অনলাইন ফাইল স্টোরেজ। যাহোক বসে গেলাম। এবং মজার ব্যপার হলো কাজটি হয়ে গেল। নামাজের আগ পর্যন্ত কাজ করেই শেষ করে ফেললাম। অনেক মজা পেলাম। আর এর মধ্যে স্প্রিং এর ফোরাম থেকে আমার জন্মদিনের শুভেচ্ছ পেলাম। মনটা আরও ভাল হয়ে গেল।

তারপর নামাজে গেলাম। নামাজ পড়ে আসলাম। অমিট এর কল পেলাম। ও বললো টিএসসি তে আয়। আসতিছি বলে পিসিতে বসেছি। সুজন স্যার কে মেইল করতে হবে। কিন্তু অ্যাটাচ করতে গিয়ে যামেলাই পড়লাম। এদিকে শাওন, অমিত, সৈকত, লিন্ডা কনটিনিউয়াসলি কল করেই যাচ্ছে। যাহোক শেষ পর্যন্ত মেইল না করেই দৌড়ে চলে এলাম টিএসসিতে।
তারপর এলো লিতু। আমরা পাঁচ মিলে গেলাম শুক্রাবাদ। সেখানে মিলে সবার সাথে আড্ডা। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে দেখা হলো সৈকত আর সাথীর সাথে। ওখানে বসে থাকলাম কিছু্ক্ষণ। তারপর লিতু আর আমি গেলাম বঙ্গবন্ধুর সেই বাড়িতে, যেখানেই ঘাতকদের গুলিতে নিহত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ বাঙালী। দেখলাম বুলেটের চিহ্ন গুলা। সৈকত বলেছিল, ভেতরে গেলে মন খারাপ হয়ে যায়, আমারও হলো। তারপর সবাই মিলে গেলাম মেট্রোতে। সেখানে ফুডকোর্টে বসে শুরু হলো জম্পেস আড্ডা। শাওন, সৈকত, সাথী, শরীফ, অমিত, লিন্ডা, লিতু মিলে আড্ডা দিচ্ছি। এসময় এসে যোগ দিল, মনিকা, পিউ, আর মৌসুমি। নাইমাকে যদিও মিস করছি। যাহোক, দারুণ কিছু সময় কাটলো। ওরা কেক কাটলো, ব্যচারারা এতো কষ্ট করলো মোম জ্বালাতে, কিন্তু পারলো না এসির জন্য। তারপর খাওয়া দাওয়া। সব মিলে চমৎকার কিছু সময়।

আমার জন্মদিনের উপহার হিসেবে সেই বিকালটি সবচেয়ে বেশি চমৎকার। আমি অনেক বেশি উপভোগ করেছি বিকেলটি। আমার ছোটবোন আমাকে একটি পাঞ্জাবী উপহার দিয়েছে, যদিও এখনো দেখি নাই। কারণ ও শেরপুর এ, আমি ঢাকায়। তারপর আমার লেপটপও এবারের জন্মদিনের উপহার। তারপর আরএকটি উপহার ছিল চমৎকার। সেটা হলো, সেদিন বিকেলে হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে ভাবছি কি করবো। বাসায় ইলেকট্রিসিটি নাই। চা করলাম। তখনই উর্মি কল দিয়ে বুয়েটে যেতে বলল। গেলাম, ও আমাকে নিয়ে শেগুন বাগিচা যাবে। তো গেলাম ওর সাথে। ও যা করলো, তা হলো, শিল্পকলা একাডেমীতে নিয়ে গেল। নাটক দেখাবে। এর আগে আমি কখনো মঞ্চ নাকট দেখি নাই। ওর সাথে বসে দেখলাম শেষ সংলাপ। খুবই আনন্দ পেলাম। নাটকটি ছিল অসাধারণ। চমৎকার সিনক্রোনাইজেশান। বিষয়বস্তুও চমৎকার। ত্রয়োদশ শতাব্দীর থেকে ষোড়শ শতাব্দীর প্রতম ভাগ পর্যন্ত মিসরে মামলুক বংশ শাসন করতো। মামলুক বংশের শাসকরা অধিকাংশ ছিলেন ক্রীতদাশ।
মিসরেরে এক সুলতান উত্তরাধিকরী হিসেবে তার পালিত পুত্র একজন ক্রীতদাস সেনাধ্যক্ষকে মনোনীত করেন। কিন্তু সুলতানের মৃত্যুর আগে তিনি দূভার্গ্যবসত তার পালিত পুত্রের ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে যেতে পারেন নিই। তাই প্রজাদের মাঝে ঝামেলা সৃষ্টি হয়, একজন কৃতদাস কিভাবে স্বাধীন মানুষদের শাসন করে। এই নিয়ে নাটকটির ঘটনা চলতে থাকে। অতি চমৎকার একটি নাটক। একটু ক্রিটিক্যাল। কিন্তু আমি দেখে অনেক মজা পেয়িছ।

এইতো আমার একুশ। সামনে আরও অনেক সংখ্যা আসবে, বাইশ, তেইশ.. কিংবা আসবে না। কে জানে। হয়তো সেগুলো আরও চমৎকার হবে। সে অপেক্ষায় রইলাম।

দিনলিপি

এই লেখাটি আমি লিখেছিলাম বৃহষ্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০১০ আমার blogspot a..

এইটা এখানে দিয়ে দিলাম।

আজকে সারাদিন ঘুমাইছি। মেজাজ খারাপ ছিল বলে ক্লাসে যাই নাই। মেজাজ খারাপটা নিজের উপর। কারণ সারারাত আমাকে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়েছে। সারারাত পরিশ্রম করে আমি ব্রাউজারে হ্যালো ওয়ার্ল্ড ছাড়া আর কিছু লিখতে পারি নাই। স্প্রিং ফ্রেমওয়ার্ক তো আরো পরের জিনিসি। টমকেট সার্ভার ইনস্টল করা লাগবে। অনেক কষ্ট করে সেটা করছি। তারপর কি ধরণের প্রযেক্ট খুলতে হবে এইটাই তো জানি না। জেএসপি এবং সার্ভলেট লাগবে, কিন্তু এগুলা নিয়ে কোন দিন কাজ করি নাই, মেথড, ট্যাগিং কিছুই বুঝি না, অন্ধের মতো, সারারাত হাতড়িয়ে সকালে শুধু মাত্র হ্যালো ওয়ার্ল্ড। সবচেয়ে বেশি বিরক্ত লাগে, যখন ফোর ও ফোর ইরর পেইজ আসে। তখন মনে হয়, লাইফটা এতো কঠিন কেন? যাহোক, বিকাল চারটায় মুন্নার কেল পেলাম। ও নীলক্ষেত আসছে। গেলাম। আমার কাছে ওর তিন হাজার টাকা। ওগুলো দিলাম। মুন্না বই কিনতে আসছে। ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ এ গেলাম। ও রাজ্যের বই কিনল। আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে আইনস্টাইন এ ইন্দুবালা নামক একটা গল্প পড়ে ফেললাম। আইনস্টাইন এর যে শেষ বয়সে টাকা পয়সার ঝামেলা চলছিল জানতাম না। তিনি বিভিন্ন যায়গায় বক্তৃতা দিয়ে টাকা উপার্জন করতেন। যাহোক এরপর কিছুক্ষণ হাটাহাটি করলাম। মুন্নার সাথে থাকতে আমার বেশ ভাল লাগে। এবং মুন্নাও আমার সঙ্গ পছন্দ করে। আমার নানা রকম বিষয় নিয়ে কথা বলি, আমি ধৈর্য্য নিয়ে তার কথা শুনি, ও তাই। আজ কথা বলছিলাম, গল্পের ব্যবচ্ছেদ ও রূপতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে। আরো নানা রকম বিষয় চলে আসে আমাদের কথা বার্তার মধ্যে। তারপর আমার কিছু সমস্যা বললাম। যেমন আমার মাঝে মাঝে কারোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে, তাকে কল/এসএমএস করার আগ পর্যন্ত মনের মধ্যে খুত খুত লাগে। আবার কল/এসএমএস করার পর, আরো বেশি খারাপ লাগে। এক ধরণের দ্বিধা দ্বন্দ্ব। এর থেকে বের হয়ে আসার উপায় কি? আরো নানা রকম সমস্যা নিয়ে আলোচনা হল। এর পর ও বলল, চলো আজিজ সুপার মার্কেট এ যায়। গেলাম। আজিজ সুপার মার্কেট এর অন্তরে রেস্তোরার লুচি বিখ্যাত। খেলাম। বেশ ভালো। এর চা-টাও ভাল। তারপর কথা বলতে বলতে শাহবাগ মোরে এসে দেখলাম এখানে সব কিছু স্তব্ধ। গাড়ি গুলা সারি ধরে দাড়িয়ে আছে, লোকজন গুলো একযায়গায় দাড়িয়ে। বুঝতেছিলাম না এই স্তব্ধতার কারণ কি। পরে অনেক্ষণ গবেষণার পর বুঝতে পারলাম, প্রধাণমন্ত্রী আসছেন। তিনি এখন বের হবেন। ঘটনাটা দেখে আমার ছোটবেলায় পড়া দৈত্যের গল্পটার কথা মনে পড়ল। দৈত্য বাগানে এলে যেমন সব স্তব্ধ হয়ে যায়, সেরকম। মুন্না বলল, আচ্ছা, প্রধানমন্ত্রীর কি বুঝা উচিৎ না জ্যাম কি জিনিস। প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেন, আর সাথে সাথে আবার সবকিছু সচল হয়ে গেল। ঘটনটা দেখার মতো। যাহোক, মুন্না যাবে জাহাঙ্গিরনগর, ও আমাকে ওর সাথে যেতে বলল, কিন্তু যাওয়ার বাসনা থাকলেও যাওয়া তো যায়না। যাহোক ওর কাছে বিদায় নিলাম। আমি যাবো ফার্মগেট। অনেক দিন পর ভাগ্যবিধাতা সুপ্রসন্ন হয়েছেন, আমি একটা টিশ্যুনী পেয়েছি। সুতরাং পড়াতে যেতে হবে। যাহোক কিন্তু হায় বাস কই। বাস নাই। আমি যখন খুব বিপদে পড়ি তখন সৃষ্টিকর্তা সবসময় আমার দিকে মুখ তুলে তাকায়। সুতরাং আমি খুব বেশি হতাশ কখনো হয়না। তো একটা মাইক্রোবাস পেলাম, সবাই হুরমুর করে উঠে গেল। সবাই উঠার পর, দেখা গেল আর একটা সিট অবশিষ্ট্য আছে, এবং ঐটা আমার জন্য। উঠলাম, এবং খুব দ্রুত ফার্মগেট পৌছে গেলাম। তারপর আরকি..দুঘণ্টার মতো পড়ালাম। তারপর আবার বাসের জন্য অপেক্ষা। খুব খারাপ অবস্থা। ২৭ নম্বর বাস নেই। কি আর করা দাড়িয়ে আছি, ভাগ্যাবিধাতা আমার ধৈর্য্য পরীক্ষা করছেন। আমি এই পরীক্ষায় পাশ বরাবরই করি। এবারও করলাম। বাস এলো, উঠে গেলাম, মজার বিষয় হলো, বাসে অনেকেই দাড়িয়ে আছে, সুতরাং আমারও দাড়িয়ে যেতে হবে, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু না, আমি সিট পেয়ে গেলাম। বসে বসে একটা উপন্যাস পড়তে পড়তে আজিমপুর চলে এলাম। এখন বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে, খেয়ে দেয়ে লিখছি।

ছোট গল্প : নীল ও নীলিমা

আকাশের অবস্থা শৌচনীয়। এখনি ঝুম বৃষ্টি হবে। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে এবং ঘন ঘন বিদ্যুত চমকাচ্ছে। নীলু আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। উত্তরের জানালা। সামনে একটা কাঠাল গাছ। একটা পাখি বসে ছিল একটি ডালে। সেটি উড়ে গেল। কয়েকটা পাতা নড়ে উঠল অমনি। নীলু পাতা নড়ে উঠা দেখল। মনটা আচানক আকাশের মেঘের মতো কালো হয়ে গেছে। আজ সারাদিন ভালই ছিল। এই বিকেলে হঠাৎ করে একরাশ ভারি মেঘ মনের উপর দিয়ে বয়ে যেতে শুরু করলো। খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে। প্রকৃতির সাথে মানুষের মনের বেশ সাদৃশ্য। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি নামবে। ঝড়ও হতে পারে। ঝড়ের পর, প্রকৃতি খুব স্নিগ্ধ হয়ে উঠে। খুব শান্ত হয়ে যায় চারপাশ। খুব ভাল লাগে তখন। মানুষের মনের মাঝেও এই ব্যপারটি ঘটে। নীলু দেখেছে তার যখন খুব কষ্ট লাগে, কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করলে পরে বেশ ভাল লাগে। নীলুর গায়ে একটা বৃষ্টি ফোটা পড়ল। বেশ বড়। অমনি ঝম ঝম করে বৃষ্টি পরতে শুরু করল। ওর খুব ইচ্ছে করছে, বৃষ্টিতে ভিজতে। কিন্তু তা করা যাবে না। নীলুর ঠাণ্ডার সমস্যা আছে। বৃষ্টিতে ভিজলেই নিওমোনিয়া লেগে যাবে। সর্দিকে নীলু খুব ভয় করে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সমস্যাটা তার প্রায়ই হয়। তার জীবনটাই এরকম। যত অপছন্দের ব্যপারগুলো আছে, সেগুলো মুখোমুখি হয় বেশি। জানালাটা বন্ধ করে দিল। ঘর অন্ধকার হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ অন্ধকারে বসে থাকা যাক। বৃষ্টির শব্দটা অনেক মজার। কিন্তু এই ঘর থেকে তেমন কিছু বুঝা যাচ্ছে না। পাকা বাড়ির সুবিধা গুলোর চেয়ে এই অসুবিধা নীলুকে বেশি খারাপ লাগায়। বর্ষাকালের সৌন্দর্যই হচ্ছে টিনের চালের ঝম ঝম বৃষ্টির শব্দ। সব ঋতুরই কিছু সৌন্দর্য আছে। বসন্ত কালের সৌন্দর্য হচ্ছে, কাঠফাটা রোদে হেটে এসে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া। নীলুর মাঝে মাঝে অন্ধকারকে ভাল লাগে। মানুষের সাথে অন্ধকারের বেশ সম্পর্ক আছে। এই যেমন মানুষ জন্মের পূর্বে থাকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। আবার অন্তিম কালেও অন্ধকারের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বাইরে এখনো আধার হয়নি। ওর জানালায় একটা ফুটো আছে। নীলু উঠে গিয়ে জানালার পর্দাটা সরিয়ে দিল, যাতে ফুটো টা দেখা যায়। তারপর বিছানায় বসে পড়ল। তাকিয়ে রইল ঐ ফুটোটার দিকে। এই তাকানোর কোন অর্থ নেই। বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, ফুটো দিয়ে দেখা যাচ্ছে। পুরো ঘর অন্ধকার। ফুটো দিয়ে একখণ্ড আলো কেমন করে যেন নীলুর বুকের কাঁপনি থামিয়ে দিল। ভাবনা গুলো আজ বেড়াতে আসেনি। খোলা মাঠ, ফাকা মাথা, সবুজ ঘাসের ত্বকে শিশির পরেনি এখনো। এক ধরণের আলুনী, মনের মাঠে ঠাণ্ডা হাওয়ার খিল নেই। মনটা যেন কেমন করে থেমে আছে। কোথাও আজ যেতে চাইছে না। ঘোড়াতো ছুটেই বেড়ায়, কারণে অকারণে। মানুষের মনটা ঘোড়ার মতো। সারক্ষণ ছটফট করে বেড়ায়। আজ কারণ অকারণ কোনটায় ঘটছে না। নীলুর মনে হচ্ছে এই ফুটোটার দিকে তাকিয়ে অনন্তকাল পার করা সম্ভব। তার সময় যেন থেমে আছে। মাঝে মাঝে ওর মনে হয়, সময় আসলে ছুটে না। আমরা ছুটি। সময়কে পেছনে ফেলে ছুটি সামনের দিকে। সময় হচ্ছে একটা ট্রেন লাইন। আমরা সবাই ট্রেনেরে যাত্রী। একেক জনের স্টেশন একেক যায়গায়। নীলুর মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে হয়, তার স্টেশন কোথায়। সে কি থেমে আছে। যে কেন জানে না, কোথায় তার স্টেশন।

নীলুর কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করছে। অন্ধকারে কিছু লেখা যায় না। মোমবাতিটি জ্বালাল। মোমের আলোর অন্যরকম রঙ। ওর খুব ইচ্ছে হচ্ছে এই মোম শিখার হালকা প্রলেপটা গায়ে মাখতে। ও মাঝে মাঝে চিন্তা করে, গহীন কোন বনের মাঝে, মোমবাতির রঙের শাড়ি পর হারিয়ে যেতে। জোনাকী পোকার মালা গলায় দিয়ে কোন রুপালী রাতে ষরিষা ক্ষেতে দৌড়ে যেতে। কিন্তু এই ইচ্ছে গুলো সব সময় অপূর্ণ থেকে যায়। ওর ডায়রীটা বের করল, তারপর লিখতে শুরু করল,

“নিলয়, আমার ভালবাসার দ্বৈতসত্বার এক প্রহসণ। তাকে ক্ষ্যাপার পরশপাথরের মতই খুজেঁ ফিরি। যে হবে হরিণের চেয়ে চঞ্চল, মরিচিকার চেয়ে মায়াবী, আবার আকাশের চেয়ে বিশাল, বৃষ্টির মতোই নির্ঝর, যার বাস শুধু আমার ভিতরে, আমার অস্তিত্বে। কিন্তু ওর বাস এখন দুটি মানুষের ভেতরে। আমি এক করে আনতে পারবো না তাকে। একজনকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে অনূভব করেছি। আমার নিলয়ের কাছে শারীরিক ভালবাসা কিছুমাত্র। তাই হয়তো অপূর্ণতার খোব রেখে দিয়েছি কোথাও। মানুষ চায় পরিতৃপ্তি, আমার নিলয় তা চায়না। তাই সে শুধুই মানুষ,নিলয় নয়। আরেকজনের কাছ থেকে সেই কৈশোর থেকে নিলয় বেড়ে উঠার চেষ্টা করছে। কিন্ত ধীর কঠিন স্থির বাস্তবতার সাথে নিলয় পেরে উঠছে না। সে ছটফট করছে। একে হৃদয় দিয়ে অনুভবে আনতে পারি নি। তাই তার শরীর থেকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনতে চেয়েছিলাম আমার নীলময় ভালবাসা। নিলয়কে। কিন্তু সেখানে পেলাম শুধুই আবেদন। অবাক হলাম, সেখানে নিলয় থেকেও নেই।

শুধু দূর থেকে মাঝে মাঝে বুঝতে পারি ঐখানে আছে। হঠাৎ যেমন করে থাকে, তেমন হঠাৎ সে উধাও হয়ে যায় আমার একাকী কল্পনার দিগন্ত রেখার ধূলোময় মেঠো পথ ধরে আলোর কাছাকাছি। তাকে ছোয়া অসম্ভব। নীল আজ থেকে তুমি শুধু আমার ভেতরে থাকবে। আমাদের কল্পনার জগতে সাজবেলায় আমি তোমার বধু হবো।তোমার অস্তিত্ব শুধু আমাতে বিলীন হবে। কেও দেখবেনা আমাদের কল্পনাময় নীল ভালবাসাকে। তুমি আমার নীলয়। তুমি কারো ভিতরে থাকতে পারো না। তোমার অস্তিত্ব অদর্শণীয়। কেবল মাত্র অনুভূতিতে তোমার বাস। তোমাকে বৃথায় খুজি। তোমার পরিপূর্ণতা শুধু আমিই দিতে পারি। আজ তাই আমি দ্বৈত সত্বা, নিলয় ও নীলিমা।”

নীলু এইটুকু লিখে থেমে পরল। তারপর কিছুক্ষণ মোমবাতির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর একটানে ডায়েরী থেকে পাতাটি ছিড়ে ফেলল, এবং মোমবাতির আগুনে ধীরে ধীরে পাতাটি পুরে ফেলল।

>আমার পহেলা বৈশাখ

>আমার পহেলা বৈশাখ এবার খুবই চমৎকার কেটেছে…. চমৎকার বলতে আমার ইচ্ছে ছিল না বাসা থেকে বের হবো… কিন্তু সুজন স্যার কল করায় আই আই টিতে যেতে হয়েছে… গেলাম স্যার এর সাথে কথা বললাম। কিন্তু স্যার ল্যপটপ নিয়ে আসেন নি. আমিও নিয়ে যায়নি। যার ফলে কিছুই হলো না। এর মধ্যে খালেদ স্যার ঝারি দিলেন.. বজলুর রহমান আপনার কি কাপড় চোপড় নাই। আমার পরনে যা ছিল মানে বাসায় যা পরে ছিলাম তাই নিয়ে বের হইছি। সুতরাং ঝারিটা পাওনা ছিল। তারপর ভাবলাম আসছি যখন টিএসসি হয়ে যাই। এর মধ্যে শাওন ফোন দিল.. শাওন বলল ও টিএসসি আছে। ওর সাথে দেখা করলাম। কথা হলো.. আড্ডা হলো। সাথে ওর বেশ কিছু বন্ধু। সিসকা (সৈকত)ছিল সাথে। সৈকত মজার মজার কথা বলে। ওর সাইজ এবং সব কিছু বাচ্চাদের মতো… সবমিলে চমৎকার। আমার বেশ ভাল লাগে।

তারপর ওদের সাথে লাঞ্চ হলো.. ওরা তেহারী খেলও। আমি আর কুন্ডু খেলাম কোক+দই। শেষে আমি বোরহানী খেলাম। যদিও আইটেম গুলার বিন্যাস হাস্যকর। কিন্তু আমার সবই কিছুই তো হাস্যকর। শাওন এর মধ্যে একটু রাগ করে বসে থাকল.. কারণ সে বিএফসি তে খাবে। ও আমাদের সাথে কিছু খেল না। কিছুতেই খাবে না। ওর জিদ দেখে অবাক হলাম। আমার সাথে ওর এতোদিন প্রায় দশ বছরের বন্ধুত্ব। কিন্তু এইটাইপ জিদ কখনো করে নাই। তারপর বাসায়।

যাহোক এই হলো আমার পহেলা বৈশাখ। একটা কবিতা মনে পরছে.. যা কোন এক পহেলা বৈশাখ এ লিখেছিলাম….

লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরেছে তুমি বেশ
মাথায় কত ফুল এঁটে বেধেছ তোমার কেশ
তোমায় দেখে দেখে আমি কেবলি হচ্ছি অনিমেষ
বলে পারো কি আছে তোমাতে যাতো মন হয় নিরুদ্দেশ।

আর মনে নাই। মনে পরলে আবার লিখবো….

স্প্রিং ফ্রেমওয়ার্ক

স্প্রিং ফ্রেমওয়ার্ক:
স্প্রিং ফ্রেমওয়ার্ক এর সাথে পরিচিত হতে হলে আগে কিছু বিষয়ের সাথে পরিচয় হওয়া দরকার। এগুলো আমরা সবাই জানি, তবুও আমি আবার বলে নিয়ে শুরু করতে চাচ্ছি। প্রথমে আসি এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন।

এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশান: এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন মূলত বিজনেজ এপ্লিকেশন। সাধারণত অনেক বড় ধরণের বিজনেজ এপ্লিকেশন গুলোতে এন্টাপ্রাইজ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যাহোক বর্তমানে করপোরেট ইনভাইরনমেন্টে এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন বলতে খুব জটিল, ডিস্ট্রিবিউটেড, কম্পোনেন্ট বেইজড এবং মিশন ক্রিটিক্যাল (mission-critical)এপ্লিকেশন বুঝায়। মিশন ক্রিটিক্যাল এপ্লিকেশন হলো, একটি বিশেষ বিজনেজ উদ্দেশ্যে এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা হয়, যার উপর বিজনেজটি নির্ভর করছে। কোন কারণে এপ্লিকেশনটি ফল করলে পুরো বিজনেজটি ফল করবে। এগুলো বিভিন্ন ধরণের প্লাটফর্মের জন্য তৈরি করা হয়, এবং করপোরেট নেনওয়ার্কস, রেসট্রিকটেড নেটওয়ার্কস, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়, যেগুলো খুব ইউজার ফ্রেন্ডলি, ডেটাসেন্ট্রকি, সিকিউরড, এডমিনিস্ট্রেটিভ হয় এবং সহজে মেনিপুলেট করা যায়। মোটকথা এন্টাপ্রাইজ এপ্লিকেশন হলো খুব কমপ্লেক্স এপ্লিকেশন । যেমন, ডাটা স্টোরেজ করা এবং ইউজার রেসট্রিকটেড করা, কাস্টোমার ইনভয়েস, ফ্লাইট বোকিংস, ব্যাংকিং সিস্টেম অটোমেশন এগুলো এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশান এর উদাহরণ। এগুলোর মাল্টিপল ইন্টারফেজ থাকে পারে, রিমোট কমিউনিকেশন করতে পারে, উন্নত ধরণের গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেজ থাকে।
এই এপ্লিকেশন গুলোর ডেপলয়মেন্টও মোটামুটি কঠিনতম কাজ। কাজ গুলো কমপ্লেক্স হলেও এগুলো ডেপ্লয় করার পদ্ধতিও আছে। আমার আলোচনা মূলত কিভাবে এগুলা ডেপ্লয় করা যায় তার উপর। জাভাতে এগুলো ডেপ্লয় করার বেশ কিছু পদ্ধতি আছে। আমি এখন এগুলো আলোচনা করবো। এজন্য আমার দরকার জাভা জেটুইই।

J2EE : জে টু ইই মানে হলো, জাভা প্ল্যাটফর্ম টু, এন্টারপ্রাইজ এডিশন। জেটুইই দিয়ে আমরা এই এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন গুলো ডেভেলপ করতে পারি। অর্থাৎ জেটুইই মূলত জাভা টুলস। জাভা এন্টারপ্রাইজ এডিশন কিন্তু জাভা স্ট্যান্ডার্ড এডিশনের বিকল্প নয়। জাভা স্ট্যান্ডার্ড এডিশন আমাদের জাভার ল্যাংগুয়েজ ফ্রেমওয়ার্ক শেখায়, যার উপর ভিত্তি করে মূলত জাভা এন্টারপ্রাইজ এডিশন তৈরি।
ধরা যাক আমি একটি বাড়ি তৈরি করবো। বাড়ি বানানোর কাজ যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ এবং কঠিনতম কাজ। এখন প্রথমে আমরা চিন্তা করি বাড়িটা আসলে কিভাবে বানাবো। আমরা জায়গা নির্বাচন করি। তারপর চিন্তা করি বাড়িটি কয় তলা হবে, কয়টা এপার্টমেন্ট হবে, এপার্টমেন্ট গুলো কত স্কয়ারফিটের হবে। তারপর চিন্তা করি, একটা এপার্টমেন্ট এ কয়টা রুম হবে, ড্রয়িং রুমের দৈর্ঘ্য কত হবে, কয়টা বাথ থাকবে, বেলকনি কোথায় থাকবে, রান্না ঘর কোথায় হবে। আচ্ছা এগুলো ঠিক হয়ে গেল, এখন আমরা চিন্তা করবো ছোটছোট কাজ নিয়ে। ওয়্যারিং নিয়ে, প্রত্যেক রুমে কয়টা পয়েন্ট থাকবে, পানির লাইন কিভাবে নেব। কোথায় বাধা আছে, বিল্ডিং এর কোথায় ভিম আছে, সেই এরিয়া গুলো এরিয়ে যেতে হবে এইসব নিয়ে চিন্তা করতে পারি। তারপরে বাথরুমে কি ধরণের টাইস ইজউ করবো, ফ্লোরে কোন গুলো। আচ্ছা ধরে নিলাম এর সবই ঠিক হয়ে গেছে, এখন আমাদের কাজ হলো কস্ট হিশেব করা। মোট কত টাকা লাগবে। ইট লাগবে কতহাজার, সিমেন্ট লাগবে কত বস্তা, রড লাগবে কত কেজি, পাথর লাগবে কিনা, বাশ লাগবে কতটি। এইসব হিসাব করার পর আসে,ইঞ্জিনিয়ারের ফি। প্রতি স্কয়ার ফি এর জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিতে হয়। সাধারণত পনের থেকে বিশ টাকা প্রতিস্কয়ার ফিট হয়, ওয়্যারিং এর জন্য আলাদা হিশেব। তিন থেকে পাচ টাকা প্রতি স্কয়ার ফিট। এখন আসি লেবার কস্ট। যাদের কাছে কন্ট্রাক্ট দেয় হয়, তাদেরকেও এরকম একটা হিসেবে সাধারণত একশত বিশ টাকা থেকে ১৫০টাকা স্কয়ার ফিট।

যাহোক আমাদের কস্ট হিসাব করা শেষ। এখন আমরা কাজ করতে শুরু করবো। ইঞ্জিনিয়ারের করা ডিজাইন অনুসারে কাজ করা হবে। তো কাজ শুরু করা যাক। আমাদের কাছে ইট আছে, বালি আছে সিমেন্ট আছে। সবই হাতের কাছে কাজগুলো করে যাবো।

আমাদের এপ্লিকেশন ডেভেলপ করার কাজটি বাড়ি তৈরি করার কাজটির মতই। বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে কাজ গুলোকে বিভন্ন অংশে ভাগ করে ফেলেছি। এখানেও তাই করতে হবে। প্রথমে ঠিক করতে হবে আমরা কি করবো, তাপর ঠিক করতে হবে, কিভাবে করবো, এরপর কি দিয়ে করবো। মনে করি আমি একটি ওয়েব সাইট তৈরি করবো। এরপর চিন্তা করবো, ওয়েব সাইটএ কি কি জিনিস থাকবে, তারপর চিন্তা করবো এটি কি দিয়ে করবো, অর্থাৎ কি টুলস ব্যবহার করবো। জাভা এন্টারপ্রাইজ এডিশান হলো আমাদের একটা টুলস, এটি দিয়ে আমরা আমাদের ওয়েব সাইটটি তৈরি করবো।

আমরা যখন সুইচ অন করি, সাথে সাথে লাইট জ্বলে উঠে। লাইফ কত্তো ইজি। আমাদের দরকার হলো, আলো। আমরা পেয়ে গেছি। আলো পাওয়ার পেছনে অনেক গুলো ব্যপার আছে সেগুলো নিয়ে আমরা মোটেও ব্যস্ত নয়, কারণ লাইট তৈরি করার লোকজন আছে, ইলেক্ট্রিসিটি প্রোভাইড করার লোকজনও আছে। ঠিক এরকম করেই জাভা এন্টারপ্রাইজ এডিশন মূলত আমাদের লাইফ ইজি করার জন্য কিছু টুলস প্রোভাইড করে, যেগুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা না করলেও চলবে।

আমরা জাভা ডেভেলপার। আমি জাভা দিয়ে এপ্লিকেশন ডেভেলপ করবো। ধরা যাক, কোন কারণে আমাদের ডাটাবেস এ ডাটা রাখার প্রয়োজন হয়ে পরেছে। কিন্তু আমি জাভা ডেপলপার। আমি অবজেক্ট ছাড়া কিছু বুঝি না। আমার ডাটা নিয়ে কোন আইডিয়া নেই। কিন্তু ডাটাবেস এ শুধু ডাটা রাখা যায়। এইক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি। আমি পুরো সিস্টেমটা নতুন করে তৈরি করবো? ডাটাবেজ বাদ দিয়ে অবজেক্টবেজ তৈরি করবো? অথবা আমি অবজেক্ট ভুলে যাবো.? এর কোনটাই সম্ভব না। এই প্রবলেম সলভ করার জন্য জাভা এন্টাপ্রাইজ এডিশান আমাদেরকে একটি টুলস পোভাউড করে যার নাম হাইবারনেট। হাইবারনেট এর মাধ্যমে আমি জাভা ডেপলপার অবজেক্ট পাস করবো। হাইবারনেট আমার অবজেক্টকে ডাটাতে কনভার্ট করে ডাটাবেস এ রাখবে। আবার আমার যখন অবজেক্ট দরকার তখন ডাটাকে অবজেক্ট এ কনভার্ট করে আমাকে রিটার্ন করবে। এইখানে মধ্যবর্তি হাইবারনেট টুলস নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথার প্রয়োজন হচ্ছে না। আমাদের লাইফটা একটু ইজি হলো। কারণ আমরা বাড়ি বানাতে গিয়ে নিশ্চয় প্রথমে মাটি পুরিয়ে ইট বানাবো না, এমনকি ইট কিভাবে তৈরি হয়, তা না জানলেও আমাদের কাজ হয়ে যাচ্ছে।

এখন আসি ফ্রেমওয়ার্ক কি? ধরা যাক আমি একটা কাজ করতে চাই। কাজটি করার জন্য অনেকগুলো উপায় আছে। কিন্তু আমি যদি বুদ্ধিমান হই, তাহলে অবশ্যই সবচেয়ে ভাল উপায়টি বেছে নেব। ফ্রেমওয়ার্ক হলো আসলে একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সহজে এবং ভাল উপায়ে আমরা একটি কাজ করতে পারি। আমরা কোন এপ্লিকেশন ডেভেলপ করার সময় কোন না কোন ফ্রেমওয়ার্ক ফলো করি। এর ফলে যে সুবিধা গুলো হয় তা হলো, অনেক বেশি কমপ্লেক্স কাজ গুলো সহজ হয়ে আসে, ডিসক্রিট অবজেক্ট গুলোকে সহজে ম্যানেজ করা যায়, টেস্টিং প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়, সহজে ডিবাগ করা যায়।

এখন আমি আমার মূল আলোচনায় প্রবেশ করবো। জাভায় অনেক গুলো ফ্রেমওয়ার্ক আছে। যেমন জএসএফ, স্টার্টস, স্প্রিং ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে স্প্রিং ফ্রেমওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। সুতরাং আমি এই ফ্রেমওয়ার্ক নিয়েই কথা বলবো।

(চলবে….)

>Print hello worl in java without having main method

>আমি খুব অবাক বিষ্ময়ে লক্ষ করলাম যে জাভা প্রোগ্রাম ও মেইন মেথড ছাড়া লিখা যায়।
আসলে ব্যপারটা একটু ট্রিকি।
যাহোক আমি প্রোগ্রামটি আগে এখানে লিখি তারপর ব্যাখ্যা করছি কেন এই ঘটনাটি ঘটে।
class helloWorld{
static{
System.out.println(“Hello world”);
System.exit(0);
}
}

যাহোক, এই প্রোগ্রামটিতে মেইন মেথড নেই। কিন্তু এটি রান করবে এবং হ্যালো ওয়ার্ল্ড প্রিণ্ট করবে।
আচ্ছা এটি কিন্তু Eclipse রান করলে রান হবে না। JCreator রান করলে হবে। Eclipse হবে না কারণ এর এডিটর
প্রোগ্রাম লোড হওয়ার আগেই নানা জিনিস চেক করে। প্রোগ্রামে মেইন মেথড আছে কিনা তা আগেই চেক করে বসে থাকে যার জন্য
এই প্রোগ্রাম রান করালে বলবে মেইন মেথড নেই।
যাহোক, এই প্রোগ্রামে স্টেটিক একটা ব্লক ব্যবহার করেছি।
আমরা জানি স্টেটিক মেথড এট্রিবিউটস গুলোকে জাভা ভারচুয়াল মেশিন একবারই এক্সিকিউট করে এবং তা প্রোগ্রাম লোড হওয়ার সময়।
তো আমরা হ্যালোওয়াল্ড প্রিন্ট করে ফেলছি তার পরেই লিখছি System.exit(0); যার মানে হলো, প্রিন্ট হ্ওয়ার সাথে সাথেই
এক্সিকিউশন বন্ধ করে দিয়েছি। যার ফলে মেইন মেথড যে নেই, এই ইরর দেখাতে পারে নাই কিন্তু আমাদের প্রিন্ট ঠিকই হয়েছে।

>রিয়েল লাইফ জোকস.

>এটি আমার একটি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা । আমি তখন কল্যাণপুরে থাকি। সভাবতই আমি মেস এ থাকি। কারণ ঢাকাই আমার আত্নীয়-স্বজন নাই বললেই চলে। ঢাকায় একুমোডেশোন সমস্যার কথা সবাই জানে। অবশ্য যারা বাইরে থেকে হঠাৎ করে অনুপ্রবেশ করে তারা আরও বেশি করে জানে। যাহোক, আমি শেরপুর এ বসে আমার এক জুনিয়রকে দিয়ে বাসা ঠিক করিয়েছি। তো সে বাসা ঠিক করেছে ঠিক আছে। বাসা অনেক সুন্দর। বিশতলা বাসা। তো আমাদের ফ্ল্যাট হলো দশ তলায়। তখন গরমের সময়। কিন্তু দশতলায় থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও আমাদের খুব একটা সমস্যা হয় না। সবচেয়ে ভাল লাগে রাতের বেলায়। বেলকনিতে বসে আকাশ দেখার মজায় আলাদা। দূরে ভবনগুলোর আলো তারার মতো জ্বল জ্বল করে। আকাশে বিমান চলে। সব মিলে এক অতি অসাধারণ একটা পরিবেশ। ফ্ল্যাটটাও অনেক সুন্দর। সবকিছু আধুনিক। রান্নঘরটা আমার বেশি ভাল লেগেছিল। কারণ আমি চা পানে অভ্যস্থ। সুতরাং আমি যেখানে থাকি রান্না ঘরটা আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি সুবিধা হলো নিড়িবিলি। একদম নীরব। দরজা জানালা বন্ধ করে দিলে মনে হবে বাইরের দুনিয়ার সাথে কোন যোগ সুত্র নাই। যাহোক এতো গেল সুবিধার কথা।
অসুবিধার কথা এখন বলি।
প্রধান অসুবিধা হলো এর লিফট নেই। ভবন আন্ডার কন্সট্রাকশান। আমাদের প্রতিদিন দশতলা সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়।
আরও বেশকিছু অসুবিধা ছিল, আমার মনে হয়, এটার তুলনায় বাকি গুলো নগন্য। যেমন ফ্ল্যাটটিতে মোট তিনটা ওয়াশরুম ছিল। আমি যে রুমে থাকতাম তার সাথে এটাস্ট ছিল একটি। কিন্তু এটাতে মাঝে মাঝে পানি থাকতো না। হঠাৎ করে পানি চলে যেত। যদিও ওয়াশরুমটা অনেক সুন্দর ছিল। আমার মনে হয় সবচেয়ে একটা ফ্ল্যাটএর সবচেয়ে সুন্দর যায়গা হওয়া উচিৎ এর ওয়াশরুম। আমার হাই কমোড পছন্দের হলেও এটি আমি ব্যবহার করতে পারতাম না। কখন পানি চলে যায়। কিন্তু অন্য দুটিতে সবসময় পানি থাকতো।

যাহোক, তো আমাদের প্রতিদিন দশতলা কষ্ট করে উঠতে হতো। আমার সাথে থাকতো দুই জুনিয়র। ওদের একজন এখন চিনে, অন্যজন কোথায় জানি না। তো প্রতিদিন যখন আমরা সিড়ি দিয়ে উঠতাম তখন আমি নানা রকম গল্প বলতাম ওদের। যাতে করে একটানে উঠা যায়। এদের মধ্যে একটি গল্প এরকম-
আমেরিকায় নিউয়র্ক এ একটা ফ্ল্যাটে এক আমেরিকান, এক ইন্ডিয়ান এবং এক বাংলাদেশি একসাথে থাকে। তো তাদের ফ্ল্যাট হলো ১২০তলায়। লিফট ছাড়া অন্য কোন উপায় নাই। তো একদিন সকাল বেলায় ওরা যে যার মতো কাজে বের হয়ে গেছে। সারাদিন কাজ করে রাত্র ফিরছে। এই সময় সবার সাথে গ্রাউন্ডফ্লোরে দেখা। একটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যা হলো বৈদ্যুতিক গুলোযোগের জন্য লিফট বন্ধ হয়ে গেছে।
এখন কি করা। তো তার সিদ্ধান্ত নিল যে তারা সিড়ি দিয়ে উঠে যাবে আজ। যাহোক দশতলা পর্যন্ত উঠার পর মনে হলো তাদের পরনে অনেক কাপড় চোপড়, পায়ে জোতা, হাতে ব্যাগ এই গুলা বহন করে নিয়ে যাওয়ার কোন মানে হয় না। তো তারা সবকিছু দশতলায় রেখে গেল। আমেরিকানটি অবশ্য প্রায় নগ্ন হয়ে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু তারা নিষেধ করলো। যাহোক এভাবে তারা সিড়ির পর সিড়ি উঠতেছিল। তো আমেরিকানটি হঠাৎ করে বলল, আচ্ছা, আমার গল্প করে করে যাই তাহলে ভাল হয়। এই বলে সে একটা খুব রগরগে গল্প শুরু করলো। যাহোক গল্প বলতে বলতে তারা মোটামুটি ৫০ তলা পর্যন্ত এসে পরল। এবার ইন্ডয়ানটির গল্প বলার পালা। সেও গল্প শুরু করলো। তার গল্প শেষ হলো ৯০ তলায় এসে। এবার বাংলাদেশিটির বলার পালা। কিন্তু তার মাথায় কোন গল্প নেই। যাহোক সে যা বলল তা হলো, “আমি আর কি গল্প বলবো, তোমরা অনেক সুন্দর গল্প বললে। আমার মনে হয় আমরা সবাই আমাদের ফ্ল্যাটের চাবি দশতলায় রেখে এসেছি। “

এভাবে আমি প্রতিদিন একটা করে গল্প বলতাম। আর দশতলা উঠে যেতাম। আমাদের খুউব বেশি কষ্ট হতো না। এই ফ্ল্যাটে আমি তিনমাস ছিলাম। অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছিলাম এই তিনমাস। বিশেষ করে মনির ভাই, আমির, রাজু ভাই, এদের কে ভুলা যায় না। আচ্ছা কল্লোল ভাইয়াও এখানে ছিল। পরে আমি ওনার সাথে এখান থেকে নেমে যাই। সময় গুলা সত্যিই অনেক মজার ছিল। এখন খুউব মিস করি।

>কেন জানি আজ কিছুই ভাল লাগছে না…….

>কেন জানি আজ কিছুই ভাল লাগছে না। মনের মাঝে মাঘী কোয়াশা। রোদ্রের তেমন ত্যাজ নেই। বসন্তের আগমনী বার্তাও কেমন জানি গম্ভীর লাগছে। ভাল লাগার সুক্ষ্ম অনভূতি গুলো মরচে ধরছে হয়তো। কোন কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। ভাবনা গুলো এলোমেলো ভাবে উড়ে বেড়াচ্ছে অজানায়। হাওয়ার মাঝে নিজের নিজস্বতাকে ভাসাতে পারলে হয়তো ভাল লাগতো। মাঝে মাজে খুব ভাসতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সব অনুভূতিকে মূল্য দিলে আমাদের চলে না অথবা অনুভূতিকে মূল্য দেয়ার পথও নেই। অনুভূতি গুলো শুধু শুধু। এদেরকে বাচিয়ে রাখতে ইচ্ছে হলেও করার কিছুই নেই। ইচ্ছের সাথে সামর্থ যে খুব নিবিড়ভাবে জড়িত। আমার তো কতকিছুই ইচ্ছে করে। কিন্তু ইচ্ছের ঘুড়ি তো আকাশে উড়াতে পারি না।

মনের ভেতরটা কেন জানি খচখচ করছে। এক ধরণের অসস্থি এ অস্থিরতা। কি করবো বা কি করা উচিৎ বুঝে উঠতে পারছি না। সময় গুলো অর্থহীন অলসভাবে চলে যাচ্ছে,ধরে রাখতে পারছি না। পুরানো বেশ কিছু স্মূতি মনে পরছে। নিঃশ্বাস ঘন হওয়ার আনন্দের মতো আনন্দ গুলো মাঝে মাঝে মনে পড়লে ভাল লাগলেও সে গুলো কখনো কখনো খুব কষ্টও দেয়। কষ্ট গুলোকে আসলে ভুলা খুব কষ্টকর। অথচ আনন্দ গুলো শুধু মাত্র অতীতের কিছু নিছক ঘটনা প্রবাহ। ভুলে গেলে খুব বেশি ক্ষতি নেই। আমরা ভুলেও যায়। কিন্তু কষ্টগুলো কেন বেচে থাকে?

ভাল থেকো বন্ধু শরতের আকাশ হয়ে
ভাল থেকো জোছনার বৃষ্টি হয়ে
ভাল থেকো আলো হয়ে,
ভাল থেকো রোদ হয়ে,
ভাল থেকো দুঃখ মুছে ফেলা অতীত হয়ে,
ভাল থেকো আনন্দ হয়ে,
ভাল থেকো হাসি হয়ে,
ভাল থেকো সকালের ঘাসের মুক্তা হয়ে।
ভাল থেকো…………………
ভালো থেকো……………….

আমি আমার মাঘী মন নিয়ে হারিয়ে যাবো
দূরে ঐ নক্ষত্রের কোয়াশার মাঝে।
অন্ধকারে………..।

>এফিটাফ

>তুমি হারিয়ে যাও
যেখানে খুশি চলে যাও
মনের অজান্তে ভালবাসার গান গাও
পাখিদের সাথে গলা মিলিয়ে
হৃদয়ের সবটুকু মেঘ ফুরিয়ে।

পাওনি মোরে
তাই বলে কি হৃদয় গেছে ঊরে.?