তবুও

বেশ খানিকটা সময় চলে গেছে
দ্রবীভূত হয়ে গেছে সবকিছু, সবাই ভুলে যায়,
আমিও ভুলে যাই। ভুলে যাওয়াটাই ভদ্রতা।
তবুও মাঝে মাঝে রাতের পর রাত আমার  চোখ
বিশ্রাম হারিয়ে জেগে থাকে। ভাবনার পর ভাবনা
গুলো একটার পর একটা এসে তোমাকেই জীবন্ত
করে তুলে। আমি কথা কই তোমার সাথে।
তুমি খিল খিল করে হাসো, হেটে বেড়াও,
আমি তাকিয়ে দেখি তোমাকে,আমিও হাসি।
তোমার নুপুরে শব্দ শুনি ।
মাঝে মাঝেই ইচ্ছে হয় তোমর হাত খানা ছুয়ে দিই
অমনি তুমি পালিয়ে যাও, মিলিয়ে যাও।
কেন যাও?

ভালবাসা

মনের মাঝে এ এক অদ্ভুত অনুরণন
হৃদয়ে বেজে যায় প্রতিটি অনুক্ষণ
ভালবাসা কি প্রহেলিকার মতো
মনে আছে, চোখে আছে, তবুও নেই কারণ, অকারণ যতো
ভাল লাগে, তাই ভালবেসে যাই,
জানার নেই কিছু কি করি কি পাই
তুমি বলো, আমি বলি, আমাদের ইচ্ছে যতো,
মিশে গিয়ে ভালাবাসা হয় কত শত।

বিদায় বেলার কাব্য

ক্লাস টেন এর শেষ দিনের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্যে এই কবিতাটি লিখেছিলাম।

বিদায় বেলার কাব্য

বিদায়! বিদায়! একি কলরব ধ্বনিছে বাতাসে

ক্রন্দন ভরা অক্ষিপট, ভাসাইছে সবাই ঝর্ণার ধারা

অধর পুষ্প নাহি ফুটে, মুখে সবার বিষণ্ণতা

আজি মোদের বিদায় লগ্ন, কহিছে কৃষ্ণপাতা।

বিদায় ঘণ্টা তাল তুলেছে ঢং ঢং করুণ তানে

দশ বছরের লালিত মাতৃক্রোড় ছেড়ে

পাড়ি জমাব আজ জীবন উচ্ছাশার দ্বিতীয় পথ পানে।

অতীত ফেলি ভাবি চিন্তায় নিমগ্ন সভায়

একি নিয়ম নীতি সবার, বুঝি না আমি।

কত স্মৃতি হাসি উল্লাস মাখা দিন মিশে আছে এইখানে

প্রতিটি পাথর-বেঞ্চ-ঘণ্টা সবার মাঝে আমাদের ভালবাসা

আজ ছাড়িতে হবে এসব, দিতে হবে বলি, একি ব্যাথা।

রচিত হবে স্মৃতির মঠ, হবে কি আর কখনো এভাবে আসা?

হৃদয় প্রশান্ত ব্যাথায় বলে, সাহারার তপ্ত বালি

কেন আসিল এ বিদায় লগন, কেন হল সৃষ্টি?

কত স্মৃতি কত কথা আজ বলে ধূসর মরুভূমি

অলস মন যেতে নাহি চায়, ভুলিব কি তোমার কৃষ্টি!

কত কাব্য রচিত হয়েছে এতদিন, আজ যেন ক্ষান্ত কলম

একি বিদায় একি বিদায়! পাজর ঘোষিছে কিন কিন,

হে প্রিয় আলয়, তোমায় বলি, করি শেষ আরতি

আমাদের যেন ভুলিও না তুমি, রেখো মনে চিরদি

অণু কবিতা -২

আমি বৃষ্টিকে খুব হিংসা করি..

বৃষ্টি এলেই তুমি হাত বাড়িয়ে দাও জানালার ফাঁক দিয়ে

বৃষ্টি তোমাকে স্পর্শ করে চলে যায়,

আমি চাই না কেও তোমাকে ছুঁয়ে দিক।

অণু কবিতা -১

তোমাকে আমি নিভৃতে চাই না, অন্ধকারেও না,

আমি চাই প্রতিটি সকাল শুরু হোক তোমাকে দেখে,

আমি চাই দিন থাকুক তোমার জন্যে, রোদ উঠুক তোমার জন্যে

বৃষ্টি আসুক তোমার-ই হাতের স্পর্শ পেতে, আম সেই বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হবো।

তিতীর্ষু সুখ

সান্ধ্য আহ্বানে পৃথিবী ঘরে ফিরে ধীরে ধীরে, থেমে আসে সব কোলাহল।

সব আলো ঠায় ঠাকুরের ধোয়ার মাঝে, বিদায় ঘণ্টা তাল তুলে ঢং ঢং

কাসরের মাঝে, সব নীল, সব সবুজেরা রঙ হারায়, আর  শরীরে নেমে আসে

অসীম ক্লান্তি, অবসন্ন মন ঠায় চায়, ভুলতে চায় সমস্ত-দিনের গ্লানি, মনে পরে

অসীম শূন্যের মাঝে ভেসে যাওয়া শ্লাঘা গুলি তিতীর্ষু সুখের মতো কিছু

অলস স্বপ্নে। ধূসর আলোর বুক চিড়ে আধার নেমে আসে, শুরু হয় নক্ষত্রে

চলাফেরা, আর তখন দৃষ্টিহীন দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকি দূরে বহুদূরে যেখানে

আকাশ চুমো খেয়েছে আমাদের এই বেলাভূমিকে। চেয়ে থাকি দু চোখ ভরা

স্বপ্ন নিয়ে ভাবি ঐ মিশে যাওয়া পথটি ধরে রাতের মতন তুমি নেমে আসবে

কোন একদিন আমার বাহুতলে। তারপর পৃথিবীর সব সবুজ ত্বক প্রাণ পাবে

নতুন রঙে আমাদের অভিসারে। আঁধার ঘন হবে, তারকারা সব জেগে যাবে

মনে সব অপূর্ণতা গুলো হাওয়ার সাথে ভেসে যাবে শিশিরের পতনের মতোন,

সব দেয়াল বিলীন হয়ে পূর্ণতা পাবে হৃদয়ের সবগুলো দুয়ার।

 

 

মেঘ হয়েই থাকো

আমি বৃষ্টি চাই না, মেঘের আনাগোনাই আমার প্রিয়,

আমার আকাশ জুড়ে থাকুক সাদা মেঘ,

আমি নীল চাইনা ,

সব নীল ঢেকে রাখো তুমি।

 

আমি চাইনা মেঘগুলো হঠাৎ করে কালো করে বৃষ্টির হয়ে ঝড়ে পড়ুক অন্যের আঙিনায়;

 

যতক্ষণ পারো মেঘ হয়ে থাকো, ভেসে বেড়াও এখানে সেখানে আনন্দে,

আমি চাইনা আর কেও ছুঁয়ে দিক তোমাকে ।

প্রেম ও ভালবাসা

ভালবাসা নরম রোদের মতো, আলতো স্পর্শ দিয়ে যাওয়া,

তারপর দূরে থেকে হাসি দেখা, প্রেম যেন জীবনের সাথে

জীবনের মিলিয়ে চলা, প্রতি পদে, কখনো কঠোরতা আর

কখনো শুকনো রোদে কঠিন ঘামে পিচ্ছিল শরীর কিংবা

আবার কখনো ধানের শীষে রোদের ঝিকমিক আনন্দ।

ভালবাসা প্রেমে থেকে থেকে হারিয়ে যায় আবার পুরোটা জোড়ে থাকে।

ভালবাসা কাছে টানে প্রেমে আলিঙ্গন করে কিংবা দূরে সরিয়ে দেয়,

হারিয়ে যায় অস্থিত্ব কিন্তু মনের মাঝে সর্বক্ষণ ধিবধিব ধাবমান

নদীর মতো বয়ে যায়। হয়তো ভাবতেই থাকে সারাক্ষণ,

কিন্তু স্পর্শ চায় না। প্রেম চায় স্পর্শ, মিলনের প্রত্যাশিত চুম্বন

প্রেমকে গভীর করে আরো সমুদ্রের ঝাপটা এনে দেয়,

ফেনিল ঢেউয়ে ভেসে যায় মানবীয় নিছক মুখোস।

তাই ভালবাসাটাই আমার প্রিয়। তোমাকে ভালবাসতেই চাই,

গভীর করে, দূর অন্ধকার নক্ষত্রের ধারে বসে,

কিংবা সকালের রোদের ঝলকের মতো একবার দেখা দিয়ে।

হঠাৎ বসন্ত

এ কোন নয় দেখার গভীর অনুক্ষণ

হঠাৎ এলে, নয়নে নয়নাভিরাম হলো এক

জানি না, কি প্রহেলিকায় আমার মন

ভরে গেল মিলে গেল সব, এক এক প্রত্যেক।

 

অঙ্গে তব লীলা-উৎপল বিচ্ছুরণ বিদ্যুৎ-সম ঝলকানি খেলে

অবনী ‘পরে সব সুখ পাখি হঠাৎ পাখা দিল মেলে

আনন্দ যে হঠাৎ আচমকা মেনে নিল সব বিশুদ্ধ উচ্চারণে

সচকিত মন আলোক সুন্দর দৃষ্টির ফেয়ার তব পানে

 

এতো সুন্দর মুখ তব যেন ঈষৎ সুমিষ্ট হাওয়াই মিঠাই

কেন এমন শুভ্রনীল লুকিয়ে ছিল আধারে কেও দেখে নাই?

আজই এ বসন্তে ফাগুন ঝরা দিনে উৎসব হৃদয় মনে

শুধু বলি অনুরণিত সত্য কথা, এ জীবন নিষ্ফল তুমি বিহনে।।

 

 

অনেক আগের লেখা একটা কবিতা। অনেকদিন পর খুজে পেলাম। ছোটবেলার লেখা… :):)