লেখা টেখা -৫

বাংলা সাহিত্যের দুটি কবিতা সম্ভবত সব থেকে জনপ্রিয়, একটি লিখেছেন, জীবনানন্দ দাশ-

শোনা গেল লাশ কাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে ফাণ্ডুন রাতের চাঁদ মরিবার হলো তার সাধ।

.. … … …

থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বত্থের ডালে বসে এসে,
চোখ পাল্টায়ে কয়: ‘বুড়িচাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?’
চমৎকার!
ধরাযাক দু-একটাইঁদুর এবার-

আরেকটি হলো- সুধীন্দ্রনাথ দত্তের-

একটি কথার দ্বিধা থরথর চূড়ে
ভর করেছিলো সাতটি অমরাবতী

একটি নিমেষে দাঁড়ালো সরণী জুড়ে,
থামিল কালের চিরচঞ্চল গতি ;

অদ্ভুত দুটি কবিতা। কবির মনের ভাবনাটুকু হয়তো তেমন গভীর করে বুঝে উঠতে পারি না,কিন্তু তা যে অদ্ভুত,সে বেপারে কোন সন্ধেহ নেই,আবার বুঝতে পারার চেষ্টা করার আগ্রহের কিছুটা কমতি নেই। মানুষ হিসেবে জন্মানোর সুবিধেটুকু পেয়ে আমরা কতই কিছুই না করছি,অথচ এর সাথে যে জীবনটা আমাদের দেওয়া হলো তার মানেই বুঝে উঠতে পারা গেল না। এদিকে সেদিকে খুঁজে ফেরে শুধুই আধো আধো ব্যপার গুলো মাথায় ভেতরে গুমোট মেঘের মতো করে ঘুরতে থাকে।

হুট করে চাকরিটা ছেড়ে দিলেম। আমাদের বেঁচে থাকার আধেয় জোগাড় করতে আমাদের অনেক কিছুই করতেহয়, চাকরি একটা তার সহজ সমাধান,সবাই করে। কিন্তু সবাই যে তার চাওয়ার যায়গাটায় যেতে পারে তেমনটা হয় তার উদাহরণ খুব বেশি যে আছে সেটি আমি বলতে পারছিনে ,কিন্তু এ ব্যাপারে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান বলতে আপত্তি নেই। আমরা যে সমাজে বাস করি,তাতে মোটামুটি বেশিরভাগ ছেলে-পেলের-ই স্বপ্ন থাকে পাস করে বের হয়েই একটি চাকরি জোগাড় করা। সেক্ষেত্রে পড়াশোনার ক্ষেত্রবিশেষ নিয়ে হয়তো চাকুরির বিষয়-বস্তু আলাদা হয়, কিন্তু কে বলতে পারে আগাম কোথায় হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিউট থেকে আমার পড়াশোনা। আমি জানি পাস করে আমারও চাকুরি করতে হবে। কিন্তু কোথায় করবো তা হয়তো দ্বিতীয় বর্ষে ঠিক করার উপায় নেই কিন্তু কেমন করে জানি আমি ঠিক করে রেখেছিলাম মনে মনে যে থেরাপ(Therap BD Ltd.) এ আমাকে যেতে হবে। তারপর পাস করার আগেই সবকিছু যখন হয়ে গেল, তখন সত্যিকার অর্থেই যে গভীর ভাল লাগা কাজ করছিল সেইটুকুই কিন্তু পুরো সময় ধরেই ছিল, এমনকি এখনো আছে। কোন বড় রকমের  সমস্যায় ছিল না। তারপরেও কেনই বা হুট করে ছেড়ে দিলেম।

ঐ যে লাশ কাটা ঘরে-

নারীর প্রণয়ে ব্যর্থ হয় নাই;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখেনি কোন খাদ,
সময়ের উদ্বর্তনে উঠে এসে বধূ
মধু-আর মননের মধু
দিয়েছে জানিতে;
হাড়হাভাতের গ্লানি বেদনার শীতে
এ-জীবন কোনদিন কেঁপে ওঠে নাই;
.. … … …

জানি- তবু জানি
নারীর হৃদয় – প্রেম- শিশু- গৃহ- নয়সব খানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতানয় –
আর এক বিপন্ন বিষ্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে
আমাদের ক্লান্ত করে
ক্লান্ত- ক্লান্তকরে;

থেরাপ-এর সেইফটি নেট থেকে বের হয়ে আসা কম কঠিন একটি কাজ নয়। সেই কঠিন কাজটি হঠাৎ করে ফেলায় মনটা কেমন আচানক পৃথুলা হয়ে গেছে। এতগুলো মানুষ,কত কথা,কত হাসি তামাশা, আত্মার টান সব কিছু ফেলে রেখে নতুন কিছুর জন্যে ছুটে চলা…. এটাই জীবন।

জীবনটা সত্যিই অদ্ভুত। এর সহজ ব্যাখ্যা কেও জানে না, সবই আধো আধো।

লেখা টেখা -৪

অনেক দিন ধরেই আমি একটা কমন প্রশ্ন সবাইকে করে আসছি,কি অবস্থা,হাও ইজ লাইফ? কথা বলা শুরু করার জন্যে বা কোশল জিজ্ঞাসা করার জন্যে অনেকেই অনেক কিছু বলে,আমি “হাও ইজ লাইফ” দিয়ে শুরু করি,এতে অনেকেই তেতো বিরক্ত।

এর দু-একটা কমন উত্তরও আছে,লাইফ সাকস অথবা ভাল। কিন্তু আসলেই লাইফ কেমন চলছে? সতিকার অর্থে লাইফ কি একটা ডেডলক নয়কি? Eat, sleep, run, stop এর একটা লুপ। এর মাঝে নানা ঘটনাপ্রবাহ।

এরআরও আগে একটি গূঢ় পশ্ন করা যায়,লাইফ কি ?

এর অনেক উত্তর আছে,শেকসপিয়র এর মতো হয়তো অনেকই বলবে,জীবন একটা নাট্টমঞ্চ,কিংবা আইস্টাইনএর মতো করে বলা,জীবন হলো সাইকেল চালানোর মতো,আপনাকে চালিয়ে যেতে হবে। হয়তো কেনা গণিতবিদ বলবে,জীবন হচ্ছে একটি ডিফারেনসিয়াল ইকুয়েশান যা কিনা অনেক ভাবে সলভ করা যায়। কিংবা কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ছাত্র হয়তো দেখবে লাইফ রানস অন প্রবাবিলিটি যার অনেকগুলো আউটকাম থাকতে পারে। কেও বলবে জীবন মানেই যাপন করা,কেও মনে করে জীবন মানেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা আবার কারো কারো মতে লাইফ হচ্ছেএসটিডি।

শ্রডিংগার-এর মতে,লাইফ কোন রহস্যময় কিছু বা ম্যাজিক্যল স্পার্ক নয়, যা সবকিছুকে এনিম্যাট করে,লাইফ হচ্ছে প্রসেস,যা কিনা পদার্থ এবং শক্তির মিথষ্ক্রিয়া যা ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রি এর ল-গুলো মেনে চলে। তাহলে এই গ্রহে কিছু মেঘের মতো ধূলিকণার মাঝে এতো এই কমপ্লেক্স সাবস্ট্যান্স গুলো তৈরি হলো?

আমরা জানি যে ডিএনএ হচ্ছে জীবনের নীলনকশা যা কিনা একটি অসাধারণ সত্যতা যার মাঝে অসংখ্য গল্প লেখা থাকে। আমরা যদি প্রাইমেটদের দিকে লক্ষ করি,তাহলে দেখবো আমাদের মোস্ট রিসেন্ট কমন এনসেসটর হচ্ছে শিম্পাঞ্জি যাদের সাথে আমাদের ডিএনএ সিকুয়েন্সের ৯৯% মিল,গরিলার সাথে ৯৮.৪%,ওরাংওটাং এর সাথে ৯৭.৪%। এভাবে সব গুলো প্রাণির সাথেই দেখা যাবে কিছু না কিছু মিল রয়ে গেছে এবং এগুলো কতো সুসংগঠিত এবং কত সুশৃঙ্খল। বিষ্ময়কর। কিন্তু মজার ব্যপার হচ্ছে আমদের এই জগৎ যদি থার্মোডিনামিক্স এর দিদ্বীয় সূত্র মতে চলে তাহলে তা চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।

কতশত প্রশ্ন আর প্রশ্ন। কি দরকার ছিল এতো কিছুর ?কেনইবা এতোসব আচার-অনুষ্ঠান, আরম্ভরতার ?  Life sucks! Totally!

লেখা টেখা -৩

ব্যস্ত থাকার অনেক সুবিধা তো আছেই,অসুবিধাও আছে- এর মধ্যে , মানুষ যে সামাজিক প্রাণি এই তথ্যটি মাথা থেকে নাই হয়ে যায়, মাঝে মাঝে।

সুহানা আপু’র সাথে ইউনিভার্সিটি থাকাকালীন অনেক ঘুরাফেরা হতো। মাঝেই মাঝেই আমরা বের হতাম এখানে সেখানে,প্রচুর আড্ডাও হতো-একবার গেলাম জাহাঙ্গিরনগর প্রজাপতি মেলা দেখতে।

এরপর যা হলো,আমি জয়েন করলাম থেরাপ-এ,আপু চলে গেলেন মৌলভিবাজার ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে। আর দেখা-সাক্ষাত হয় না। গত দু বছরে মনে হয় হয়নি। অনেকবার এটেম্প নেওয়ার পরও আমরা কেও সময় মেলাতে পারি না। কারো না কারো সমস্যা থাকেই। গত বৃহস্পতিবার দেখা হওয়ার একটা সম্ভাবনাছিল, কিন্তু আমি থেকে গেলাম অফিসে,পোস্ট-রিলিজ সংক্রান্ত কাজে।

তবে বৃহস্পতি বার অফিস থেকে ফেরার পথে ঢাকা কমিককনএ গেলাম। বনানীতে হওয়ার সুবাদে যাওয়া হলো আরকি। San Diego Comiccon এরসাথে তো তুলনা করে লাভ নেই,কিন্তু যখন দেখলাম যে কতগুলা টি-শার্টের স্টল ছাড়া আর কিছুই নেই,তখন মনে হচ্ছিল আসাটাই বৃথা। সালমান ভাই সাথে ছিলেন,উনি একটা হুডি কিনে ফেললেন চট করে। লাভের মধ্যে এইটাই বলা যায়। আমি কিছু ছবি তুলে চলে আসলাম।

সব কিছুর ক্ষেত্রেই যে ব্যস্ততা দায়ী তা নয়,কিছুটা আলস্য বা আমার ঘুম-বিলাসও দায়ী।

আজ বাংলাদেশে রিচার্ড স্টলম্যান, দি গ্রেট আরএমস,এসেছিলেন। ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির অডিটরিয়ামে সেমিনার ছিল। স্বাক্ষর আর আমি মোটামুটি সিওর যে আমরা যাবো তাকে দেখতে।

ইটস রিচার্ড স্টলম্যান ফর রিয়েল বাই হিমসেলফ।

যাহলো,আমিও ঘুমিয়ে সময় পার করে দিছি সময়,স্বাক্ষরও তাই করছে। কিছুক্ষণ আগে মোজাম্মেল ভাইয়ার ফেইসবুক ওয়ালে রিচার্ডস্টল ম্যান-এর সাথে ফটো দেখে প্রচণ্ড আফছোস হচ্ছিল আর নিজের উপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল।

লেখা-টেখা-২

থাকা আর না থাকার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এই এতো মানুষ, প্রতিদিনই কত শত হাজার নতুন আসছে পৃথিবীতে , যাচ্ছেও সেরকম। এই যাওয়া আসার জন্যে কত-শত আয়োজন, কোলাহল, কত আরম্ভরতা।

এই মহা বিশ্বের সাথে আমাদের এই পৃথিবীকে তুলনা করলে তাকে ধূলি কণা বললেও ভুল হবে না। একটি ধূলি কণা নিয়ে পুরো জগতের মাথা ব্যথার কি বা কারণ থাকতে পারে ! কোন কিছু নিয়ে মন খারাপের কোন কারণ নেই। আমি আছি, থাকবো না এর মাঝের ব্যবধানটুকু অতি ক্ষুদ্র।

বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে নানা রকম মহাজাগতিক রশ্মির ইন্টারসেকশনে তৈরি হয় মিওন যার লাইফ টাইম হচ্ছে ২ মাইক্রোসেকেন্ড। মুহূর্তেই হাজার হাজার কোটি তৈরি হয়, আলো কাছাকাছি বেগে পৃথিবীতে আঘাত হানে, তারপর নাই হয়ে যায়, তাতে কি আমার কিছু আসে যায়?  আমার মন খারাপ হলেও আলফা সেনচুরি-র কিছু আসে যায় না। তাহলে আমাদের এইসব জীবন যাপন অহেতুক?

সব কিছুই যেন ছোটন্ত ঘোড়া। ছুটে চলার আনন্দেই চলা। কেন এই ছুটে চলা, যার কোন মানে নেই। ছুটে চলার মাঝে কি আনন্দ আছে? আনন্দই বা কি? মস্তিস্কের অনুরণন?

এও হতে পারে এই সব যা দেখছি তার কোন কিছুই সত্যি নয়, শুধুই কারো ভাবনা ?

লেখা-টেখা -‌১

অনেকদিন থেকেই ভাবছি কিছু একটা লিখি, কিন্তু তা আর হয়ে উঠছে না। একটা সময় অনেক লিখতাম। আমার ডায়েরী লেখার অভ্যাস ও ছিল। গল্প লিখতাম, বিশেষ করে ছোটগল্প, কবিতাও লেখা হতো মাঝে সাঝে।

কলম নিয়ে বসলেই লেখা চলে আসতো আপনা-আপনি। এখন আর হয় না। পুরোনো ডায়েরী গুলো দেখে মাঝে মাঝে হাসি।

এখন লিখতে বসে ভাবছি কি লেখা যায়। মাথা থেকে কিছুই বের হয় না।

চিন্তা ভাবনা গুলো কেমন জানি এক জায়গায় আটকে গেছে। অর্ণবের একটা গান আছে-

 বাক্সে বাক্সে বন্দি বাক্স,

বাক্সে বাক্সে বন্দি বাসা,

বাক্স দিয়ে বাক্স গড়া,

বাক্স দিয়ে স্বপ্ন আশা।

এই গানটা শুনতেছিলাম। এই শুনে মনে হচ্ছিল, এই লিরিক্স যে লিখেছে সে নিশ্চয় অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামার ছিল। বাক্স মানে অবজেক্ট।

কয়েকদিন আগে মটনটা বেশ খারাপ হয়ে ছিল। নানা রকম চিন্তা ভাবনা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল।

জীবন-যাপন নিয়েও ভাবতে ছিলাম। মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করায় অনেক সুবিধা মধ্যে আছি, সেইটা জানি, কিন্তু অসুবিধাও অনেক। মুল সমস্যা মাথার মধ্যে। সারাক্ষণ নানা রকম চিন্তা করে। এই যে দুনিয়া, কত বড়। পৃথিবীইটাই কতো বড়ো কিন্তু আসলে এইটা কোন বড়র মধ্যেই পরে না। সৌরজগৎ বলে যে জিনিস আমারা জানি, এইটা গ্যালাক্সি এর তুলানায় কিছুই না। এই রকম হাজার কোটি গ্যালাক্সি আছে যেগুলো আমরা দেখতে পারি, এর বাইরেই কতগুলা আছে তার কোন ঠিকানা নাই। এই মহাবিশ্ব যদি এতোই বড় হয়ে থাকে, তাইলে এর তুলানায় আমি কিছু্‌ই না। এই কিছুইনা টা ভাল লাগছে না।

একটা কিছুই-না-ময় জীবন নিয়ে আমাদের কত কাজ, কত রকম কিছু্। মন খারাপ করার মতোই।

আমার যত ইচ্ছে গুলো

ইচ্ছে করে কোন এক বসন্তের রাতে  বাতাশ পুত্র তাণ্ডবকে নিয়ে একটু খেলে আসি কালবৈশাখী ঝড়। রাত্রটি বসন্তেরই হতে হবে এমন কোন কথা নেই, শুধু চাই ঝড়ে উড়ে যাক সমস্ত চাল-চৌখাট। নতজানু হয়ে সমনে দাড়াক সমস্ত সুলাইমানি জিন। হুকুমেই থর থর করে কেঁপে উঠুক বিশ্বচরাচর।

ইচ্ছে করে কোন এক তৃষ্ণার্ত দুপুরে খা খা রোদে বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনি খাবার । দুপুর তৃষ্ণার্ত হতেই হবে এমন কোন কথা নেই, হোক না কিছুটা দন্দ্ব-লড়াই বাঘের সাথে। আমাকে কুর্ণিশ জানাক বনের সকল সিংহ এসে।

ইচ্ছে করে দুস্তি করে রাবনের সাথে। রাবনের সাথে দুস্থি হতেই হবে এমন কোন কথাই নেই, বরং সীতাকে নিয়ে আমিই পালাই। যুদ্ধ করি সমস্ত লঙ্কা-সেনানীর সাথে, পাঞ্জালড়িবীরবাহুপুত্র ইন্দ্রজিৎ এর সাথে।

ইচ্ছে করে হারিয়ে যাই সমুদ্রের ফেনা ভেঙে হেঁটে হেঁটে নারিকেলবীথিদ্বীপ ছেড়ে কোন এক চম্পক দেশে। অথবা কোন এক ভর জোৎস্না রাতে চাঁদকে হাতে নিয়ে ছুড়ে ফেলি নীল আটলান্টিকে।

শুধু ইচ্ছে করে না রোদ-উচ্ছাসে ধানের শীষের হাওয়ার সাথে হেঁটে হেঁটে গান গেয়ে তোমার ভালবাসার নরম স্পর্শের শৈত্যে ভরে তুলতে আমার এ মন।

মনের রিক্ততা

মাঝে মাঝে মনের ভেতরে কেমন করে যেন এক ধরণের রিক্ততা বাসা বাধে, সব কিছুতেই কেমন আলস্য, বোধহীন আধো আধো লাগে, ভাল লাগা বা মন্দ লাগার অনভূতি যেন হারিয়ে যায়, মনটা আচানক, কোন কিছুতেই ধীর স্থির বসতে চায়, কি করি কি করি এমন অস্থিরতায় সময় কাটে অথচ কোন কাজই ঠিক মতো হয়ে উঠে না কিংবা কাজ করতেই ইচ্ছে হয় না। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না, খেতে মন চায় না, মুভি দেখতে বা বই পড়তেও  ইচ্ছে হয় না। কোন খারাপ কিছু হলেও মন সেদিকে যায় না। পৃথিবী ভেসে যাক বেনো জলে ভেসে, তাতে আমার কি, এমন এক আলস্য ঘিরে রাখে চারপাশ। সবকিছুই অসার। পৃথিবীতে কোন আনন্দ নেই, ভালবাসা নেই, ইচ্ছে নেই, নতুন কোন চাহিদা নেই, শুধুই অসহায় চিত্তে কোথাও তাকিয়ে থাকা। দূরে কোথাও কোন অন্ধকার মরে যাওয়া নক্ষত্রের পাশে বসে চুপটি করে সময়গুলো কাটিয়ে দিতে পারলে মন্দ হতো না।

রিকশাওয়ালাদের জন্য প্রফেশনাল ট্রেনিং

বাংলাদেশে বসবাসকারীদের জন্যে রিক্সা একটি বহুল ব্যবহৃত এবং আনন্দদায়ক যান বলা যেতে পারে,আরো সুন্দর করে বললে, রিক্সা ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। কিন্তু আমি আশ্চর্য-ভাবে লক্ষ্য করেছি যে আমাদের প্রতিদিনের চলাফেরার মাঝে রিক্সা এমন ভাবে জড়িয়ে থাকলেও, এই বাহনটির চালকের সাথে নৈমিত্তিক বিবাধ লেগেই থাকে। রিকশাওয়ালা ভাড়া বেশি দাবী করে বসে থাকেন, যাত্রী ক্ষেপে গিয়ে গালমন্দ কিংবা মাঝে মাঝে চড় থাপ্পড় দিয়েও বসেন। আরো আশ্চর্য ভাবে লক্ষ্য করে দেখেছি যে, রিকশাওয়ালাদের নিজেদের মাঝেও বিবাধ লাগিয়েই রাখে, এক রিক্সা অন্য রিক্সার আগে চলে যেতে চাই, একজন আরেকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সামনের রিক্সার যাত্রীর অবস্থা দফা-রফা করে ছাড়ে। বিশেষ করে আমার অনেকবারই রিক্সা থেকে পরে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছে। তারপর কেও সাইড না দিলে, কিংবা ভুল বসত লাগিয়ে দিলে সাথেই সাথে দুই চালকের মুখ নিঃসৃত অমিয় বানীর বর্ষণ শুরু হয়। এইসব মোটামুটি নিত্য দিনের চিত্র। আমি এই ব্যপারে রিকশাচালকদের খুব বেশি দোষারূপ করছি না, কারণ এর মূলে রয়েছে তাদের মানুষিক বিকাশের সমস্যার কারণে। শিক্ষা বলছিনা, কারণ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিরক্ষর থেকে অক্ষর জ্ঞান দান করে, কিন্তু শিক্ষিত করে তুলতে পারে না। এর অনেক উদাহরণ আসে পাশে দেখা যায়। এখন মূল কথায় আসি, যেহেতু আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের রিক্সা একটি বিলাসের সেই সাথে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি যান, সুতরাং এর চালকদের সাথে আমাদের একটি সুন্দর সম্পর্ক থাকা উচিৎ। এই সুন্দর সম্পর্কটি তৈরি করার একটি সুন্দর উপায় আমার মাথায় এসেছে, সেটি হলো তাদেরকে প্রফেশনাল ট্রেনিং দেওয়া। আমি ট্রেনিং সেন্টার খুলে আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে বলছি না। আমরা যারা প্রতিদিন রিক্সায় উঠি তারা ইচ্ছে করলেই, কিছু সময়, যতক্ষণ রিক্সায় বসে থাকি, কিংবা রিক্সা থেকে নামার সময়, আমরা রিকশাওয়ালাদের সাথে কিছু কথা বলতে পারি, তাদের বুঝিয়ে দু-একটি কথা বললে তার শুনবে। আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি। জিনিসটি বেশ কাজের। শুরুতে আপনি শুরু করতে পারেন, কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে, যেমন, ভাই আপনার বাড়ি কোথায়। ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন,তারা লেখা পড়ার করছে কিনা তার খোঁজ নিতে পারেন। তারপর বলতে পারেন, আপনি যে অন্য রিক্সার পেছনে একটা ধাক্কা দিলেন, সামনের যাত্রী যদি অ-সতর্কভাবে বসে থাকে, তাহলে পরে যেতে পারে, কাজটা ঠিক না। কিংবা বলা যেতে পারে, এই যে এই মাত্র আপনি যাকে গালি দিলেন, উনি কিন্তু আপনার মতোই একজন, সময়ে অসময়ে দরকার পরলে এরাই আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। অনেক সয়য় টাকার ভাংতি থাকে না, একটি সুন্দর সম্পর্ক থাকলে এরাই আপনাকে সাহায্য করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা মজার ঘটনা বলি, আমি একদিন এক রিকশাওয়ালার সাথে এমন গল্প করছিলাম। আমি যখন রিক্সা থেকে নামলাম, উনি আমাকে জোড় করে চা-বিস্কুট খাওয়ালেন, কোন ভাবেই ছাড়বেন না। সুতরাং বাধ্য হয়ে খেতে হলো।

 

 

 

নির্ঝরিণী

মনে রাখা এবং ভুলে যাওয়া দুটিই কঠিন। হয়তো তুমি একটি জিনিস খুব করে মনে রাখতে চাও, কিন্তু তুমি আসলে সেটি কোন না কোন ভাবে ভুলে যাবে। আবার ভুলে যাওয়ার ব্যপারটি আরও কঠিন।
তুমি ঠিক কাওকে খুব করে ধরে রাখতে চাও, তাকে তুমি তোমার মতো করে নিতে চাও, কিন্তু তুমি দেখবে সে তোমার হতে আসবে না, বরং তোমাকে তার মতো হয়ে যেতে হবে অথবা তাকে হারিয়ে ফেলবে; এবং যখন হারিয়ে ফেলবে, তুমি তাকে ভুলে যেতে চাইবে, কিন্তু তা হবার নয়। তুমি আরও বেশি বেশি করে তাকে মনে করে কষ্ট পেতে থাকবে।
আবার ধরো, তোমার অতি কাছের কেও, তুমি ইচ্ছে করলেই তাকে ছুতে পারো, সে তোমার হয়ে আছে, কিন্তু তুমি তাকে ছুতে চাইবে না, তোমার তাকে মনে পরবে না, তুমি সবসময়ই ভুলে বসে থাকবে।

View original post

সম্রাট হুমায়ুন

সম্রাট হুমায়ুন সতীদাহ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। তিনি একবার ঘোড়া-ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে প্রজাদের দেখতে বের হয়েছিলেন, সামনে শ্মশানঘাট এ সতীদাহ হওয়া দেখে ফরমান জারি করে সতীদাহ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাধাদেয় জওহর নামে এক মশক-বাহক,সে সম্রাট এর পানি সরবরাহ করতো, “আলমপনা, গোস্তাকি মাফ হয়, আপনার সমস্ত প্রজা হিন্দু। আপনি ওদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তারা বৈরি হয়ে উঠবে। আপনার জন্য শাসনকার্য পরিচালনা দুষ্কর হবে।”

আল সুলতান আল আজম ওয়াল খাকাল আল মুকাররাম, জামিই সুলতানাত-ই-হাকিকি ওয়া মাজাজি, সৈয়দ আল সালাতিন, আবুল মোজাফ্ফর নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ পাদশাহ, গাজি জিল্লুল্লাহ

কত বড়ো নামরে বাবা। এইটা ছিল সম্রাট হুময়ানের নাম।

মোঘল সম্রাটদের মধ্যে হুমায়ুন আমার খুব প্রিয়। লোকটা অনেক ভাল ছিলেন, তবে এই ভাল থাকার জন্য যে বৈশিষ্ট্য গুলো থাকা প্রয়োজন, তা এই সময়ের ভালত্ব দিয়ে বিচার করলে চলবে না। সিংহাসনে বসেই সম্রাটদের প্রথম কাজ থাকে তার শত্রুদের দমন করা। এর মধ্যে তাদের যদি ভাই থাকে, শুরুতেই ভাইদেরকে হত্যা করা আবশ্যক ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। এবং এই জন্য তিনি অনেকবার বিপদে পরেছেন, রাজ্য হারিয়েছেন। কিন্তু বারবার ক্ষমা করে দিয়েছেন। জিনিসটা বিরল। তিনি যখন রাজ্য হারা হয়ে পথে পথে, তখন তাকে পারস্য রাজা সাহায্য করেছিলেন। তার প্রথম কথায় ছিল, আপনি ভাইদের হত্যা করেননি কেনো? কি আশ্চর্য না? হুমায়ুনের ছোট ভাই কামরান মির্জা বারবার তাকে বিপদে ফেলেছেন, হুমায়ুনকে বন্দি করে হাতে তুলে দিতে চেয়েছেন অনেকবার। কিন্তু তিনি বারবারই তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সম্রাটদের অনেক সময় মন অনেক শক্ত থাকতে হয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ওনার মন অনেক দুর্বল ছিল। তবে হুমায়ুন অনেক ভাবে সৌভাগ্যবান ছিলেন। তাকে সবাই ভালবাসতো। তিনি সবার ভালবাসা না পেলে হয়তো মোঘল আমল হুমায়ুনের পরেই বিলুপ্ত হয়ে যেতো। সম্রাট বাবর হুমায়ুনের রোগ নিজের শরীরে নিয়ে পুত্রকে মুক্ত করেছিলেন। সেই গল্প আমরা সবাই জানি। তারপর তার সবচেয়ে ভাল সহচর ছিল বৈরাম খাঁ। তার সেনাপতি। বৈরাম খাঁ না তাকে সাহায্য না করলে হয়তো তিনি কখনোই সাম্রাজ্য ফিরে পেতেন না। ইতিহাসে দেখা যায়, হুমায়ুন বারবার পরাজিত হচ্ছেন। এর পেছনে অবশ্য তার খামখেয়ালী আর দুর্বল মনকে অনেকেই দায়ী করবেন। কিন্তু সেগুলোকে আমি খুব একটা খারাপ চোখে দেখি না। কারণ সেগুলো আসলে তাকে অনেক বেশি মহান করে তুলেছেন। তাকে তার শত্রুও ভাল বাসতেন। শের খাঁ যখন তাকে পরাজিত করার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন, তখন তার সহচরদের প্রতি তার নির্দেশ ছিল তারা যাতে কোন ভাবেই হুমায়ুনকে হত্যা না করে, তাকে যেন পালিয়ে যেতে দেওয়া হয়। এইজন্য অবশ্য হুমায়ুন পর পর দুইবার বেচে যায়। শের খার সৈন্যরা দেখছে, হুমায়ুন পালিয়ে যাচ্ছে, ইচ্ছে করলেই তীর ছুড়ে তাকে হত্যা করতে পারে, কিন্তু তা তারা করছে না, জিনিসটা সত্যিই অন্যরকম। শের খা নানা রকম ফন্দি ফিকির করে, হুমায়ুনকে পরাজিত করেন, হুমায়ুন ঘোড়া নিয়ে পানিতে ঝাপ দেন, ঘোড়া পানিতে ডুবে যায়, তখন নাজিম নাকে এক ভিস্তিওয়ালা তাকে বাতাস ভর্তি এক মশক ছুড়ে দেয়। হুমায়ুনের জীবন বাচানোর জন্য হুময়ান কথা দেয়, তাকে একদিনের জন্য তার সিংহাসনে বসাবেন। মজার ব্যাপার হলো সম্রাট সে কথা ভুলে যায় না, তিনি যখন দিল্লির সিংহাসনে বসেন, তখন সেই ভিসতিওয়ালকে একদিনের জন্য সিংহাসনে বসান। হুমায়ুন মশক ধরে নদীর ওপারে উঠে খুব অসুস্থ হয়ে পরেন। তখন তাকে বাচায় লছমী বাই নামের এক সাধারণ মহিলা।

এভাবে নানাভাবে হুমায়ুন অন্যের ভালবাসা পেয়েছেন। তিনি নিশ্চয় মানুষটা অন্যের ভালবাসা পাওয়ার মতো ছিলেন।

তবে হুমায়ুন খুব খামখেয়ালী ছিলেন, এই বিষয়টি আমার সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। মোঘলদের অনেক দোষত্রুটি ছিল, নানা জন্য নানা ভাবে ব্যাখ্যা করছেন, কারো লেখা পড়লে মনে হবে এদের মতো নিষ্ঠুর কেও হতে পারে না, আবার কারো লেখায় তারা অনেক মহান ছিলেন। তবে আমি যতটুকু ইতিহাস জানি, খুব বেশি জানি না, ক্লাস থ্রি থেকে-নাইন পর্যন্তু যতটুকু ইতিহাস পড়েছি, তার সবই প্রায় ভুলে গেছি, সেগুলোর মধ্যে মোঘল আমলের সম্রাটদের মধ্যে হুমায়ুনকে খুব বেশি ভাল লেগেছে। সবদিক থেকে তিনি অনেক ব্লেজড ছিলেন।

মোঘল আমল নিয়ে আমি একটু পড়াশোনা করছি, মাঝে মাঝে নিজেকে সম্রাট সম্রাট মনে করতে ইচ্ছে হয়। তবে আমি মনে হয় হতে পারতাম না, সম্রাট হতে হলে তাদেরকে অনেক নিষ্ঠুর হতে হয়, তা হয়তো হতে পারতাম না। কাওকে হাতির পায়ের নিতে পিষ্ট করতে কিংবা গাধার চামরা ভেতর ভরে তা শুকিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর হওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু এই ব্যাপার গুলো তাদের কাচে খুব সহজ ছিল। তাদের আত্মসম্মান ছিল প্রচুর। কন্যাকে শত্রুর হাতে তুলে দেওয়ার চেয়ে নিজে হত্যা করাটা বেশি ভাল মনে করতেন, তার মেয়ে এই নয় যে সে কন্যাকে ভালবাসেন না, হুমায়ুনের কন্যাকে অনেক ভালবাসতেন।

সম্রাটের মুখের কথায় আইন, কি আশ্চর্য একটা ব্যাপরই না ছিল। তিনি একটা ফরমান জারি করলেই সেটা আইন, সবাইকে তা শুনতে হবে। না শুনলে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাজা বাদশাহদের জীবনে সুখ সাচ্ছন্দ্যের মধ্যে দিয়ে কেটেছে তা সত্যি কিন্তু তাদের জীবন নিয়ে সংশয়, মৃত্যুর ভয়াবহতা, যুদ্ধবিগ্রহ, রাজ্যদখল, প্রজা পালন এইসব ব্যাপারে একটা ভজঘট থেকে যা বুঝা তা হলো, তারা খুব বেশি সুখি ছিলেন না। তাছাড়া প্রজাদের জন্য তারা যে অনেক করতেন, তাও কিন্তু খুব  বেশি দেখা যায় না। বরং আমার কাছে কেন জানি মনে হয়, প্রজারা আসলে রাজাদের পালত।

তবে সেই মধ্যযোগের চেয়ে আমরা আসলে অনেক বেশি সুখে আছি, পৃথিবীতে নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি কখনোই ছিল না। কখনো না কখনো যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই ছিল। এখনো তাই। বরং অতীতের চেয়ে আমরা বেশ সভ্য হয়েছি।

তবে আমার কেন জানি মনে হয়, হুমায়ুন সম্রাট না হয়ে যদি কবি হতেন, সাম্রাজ্য অন্যের হাতে দিয়ে তিনি নিজে পড়াশোনা করতেন, শিল্প সাহিত্য নিয়ে বসে থাকতেন তাহলে হয়তো আমরা একজন কবি পেতাম/সাহিত্যিক পেতাম।