রিকশাওয়ালাদের জন্য প্রফেশনাল ট্রেনিং

বাংলাদেশে বসবাসকারীদের জন্যে রিক্সা একটি বহুল ব্যবহৃত এবং আনন্দদায়ক যান বলা যেতে পারে,আরো সুন্দর করে বললে, রিক্সা ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। কিন্তু আমি আশ্চর্য-ভাবে লক্ষ্য করেছি যে আমাদের প্রতিদিনের চলাফেরার মাঝে রিক্সা এমন ভাবে জড়িয়ে থাকলেও, এই বাহনটির চালকের সাথে নৈমিত্তিক বিবাধ লেগেই থাকে। রিকশাওয়ালা ভাড়া বেশি দাবী করে বসে থাকেন, যাত্রী ক্ষেপে গিয়ে গালমন্দ কিংবা মাঝে মাঝে চড় থাপ্পড় দিয়েও বসেন। আরো আশ্চর্য ভাবে লক্ষ্য করে দেখেছি যে, রিকশাওয়ালাদের নিজেদের মাঝেও বিবাধ লাগিয়েই রাখে, এক রিক্সা অন্য রিক্সার আগে চলে যেতে চাই, একজন আরেকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সামনের রিক্সার যাত্রীর অবস্থা দফা-রফা করে ছাড়ে। বিশেষ করে আমার অনেকবারই রিক্সা থেকে পরে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছে। তারপর কেও সাইড না দিলে, কিংবা ভুল বসত লাগিয়ে দিলে সাথেই সাথে দুই চালকের মুখ নিঃসৃত অমিয় বানীর বর্ষণ শুরু হয়। এইসব মোটামুটি নিত্য দিনের চিত্র। আমি এই ব্যপারে রিকশাচালকদের খুব বেশি দোষারূপ করছি না, কারণ এর মূলে রয়েছে তাদের মানুষিক বিকাশের সমস্যার কারণে। শিক্ষা বলছিনা, কারণ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিরক্ষর থেকে অক্ষর জ্ঞান দান করে, কিন্তু শিক্ষিত করে তুলতে পারে না। এর অনেক উদাহরণ আসে পাশে দেখা যায়। এখন মূল কথায় আসি, যেহেতু আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের রিক্সা একটি বিলাসের সেই সাথে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি যান, সুতরাং এর চালকদের সাথে আমাদের একটি সুন্দর সম্পর্ক থাকা উচিৎ। এই সুন্দর সম্পর্কটি তৈরি করার একটি সুন্দর উপায় আমার মাথায় এসেছে, সেটি হলো তাদেরকে প্রফেশনাল ট্রেনিং দেওয়া। আমি ট্রেনিং সেন্টার খুলে আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে বলছি না। আমরা যারা প্রতিদিন রিক্সায় উঠি তারা ইচ্ছে করলেই, কিছু সময়, যতক্ষণ রিক্সায় বসে থাকি, কিংবা রিক্সা থেকে নামার সময়, আমরা রিকশাওয়ালাদের সাথে কিছু কথা বলতে পারি, তাদের বুঝিয়ে দু-একটি কথা বললে তার শুনবে। আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি। জিনিসটি বেশ কাজের। শুরুতে আপনি শুরু করতে পারেন, কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে, যেমন, ভাই আপনার বাড়ি কোথায়। ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন,তারা লেখা পড়ার করছে কিনা তার খোঁজ নিতে পারেন। তারপর বলতে পারেন, আপনি যে অন্য রিক্সার পেছনে একটা ধাক্কা দিলেন, সামনের যাত্রী যদি অ-সতর্কভাবে বসে থাকে, তাহলে পরে যেতে পারে, কাজটা ঠিক না। কিংবা বলা যেতে পারে, এই যে এই মাত্র আপনি যাকে গালি দিলেন, উনি কিন্তু আপনার মতোই একজন, সময়ে অসময়ে দরকার পরলে এরাই আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। অনেক সয়য় টাকার ভাংতি থাকে না, একটি সুন্দর সম্পর্ক থাকলে এরাই আপনাকে সাহায্য করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা মজার ঘটনা বলি, আমি একদিন এক রিকশাওয়ালার সাথে এমন গল্প করছিলাম। আমি যখন রিক্সা থেকে নামলাম, উনি আমাকে জোড় করে চা-বিস্কুট খাওয়ালেন, কোন ভাবেই ছাড়বেন না। সুতরাং বাধ্য হয়ে খেতে হলো।

 

 

 

One thought on “রিকশাওয়ালাদের জন্য প্রফেশনাল ট্রেনিং

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s