ভুতের নৌকা

আজকে একটা ভুতের গল্প লিখবো। শুরুতে বলে নেওয়া দরকার, ভুতের আইডিয়াটা কিভাবে আমার মাথায় এলো। আমি তখন অনেক ছোট সম্ভবত ১২ তে পড়ি। আমি তখন গ্রামের বাড়িতে। রাত তখন ৯ টা হবে, আম্মু, আমি আমার নানুনানী এবং আমার নানীর একটা ভাই উঠোনে বসে আছি, তখন আমের সময়, আমরা সবাই মিলে আম খাচ্ছি। আমার ছোটবোন পাশের ঘরে একটা রুমে ঘুমুচ্ছে। ওর বয়স তেমন বেশি নয়, কেবল মাত্র কথা বলা শিখেছে, আর একটা বিশেষ জিনিস শিখেছে সেটা হলো, আমাকে খামচি দেওয়া। তখন মনে হতো, ওর তিনটা কাজ, খাওয়াদাওয়া আর, ঘুমানো আর আমাকে খামচি দেওয়া। ওর এই কাজে আমি বিরক্ত হয়ে ওর নাম দিয়েছি করল্লা। এই বিদঘুটে সবজীটা আমার খুবই অপছন্দের। আমি কখনোই খেতে চাই না। কিন্তু আমার আম্মু, কেন জানি, এই বিশেষ সবজীটা সব সময় খেতে বলেন। কোন কোন সময় আমাকে ভুলিয়ে খাইয়ে দেন, আর যখন আমি খেয়ে উঠি, তখন বলে দেন, আর এমন হাসি দেন, যাতে করে মনে হবে আম্মু বিশ্বজয় করে ফেলেছে এই কাজটা করে। যাহোক, ভুতের অংশে চলে আসি। আমার নানীর ভাই, আম খেয়ে উঠে পরলেন। এবার তিনি বাড়ি যাবেন। উঠে বের হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ চিৎকার, “বুঝান আইলি না, আমাকে মাইরা ফালাইলো”। আমার নানীকে তার ছোট ভাই বুঝান ডাকে। যাহোক, গ্রামের বাড়ি, চিৎকার শুনে চারদিকে সবাই ছুটে চলে আসছে, সবাই ভাবছে চোর চোর। এসে দেখে যে যায়গায় উনি ভয় পেয়েছেন, সেখানে দস্তাদস্তির চিহ্ন। সুতরাং এখানে যাই হোক, বেশ খানিক্ষণ দস্তাদস্তি হয়েছে। মজার ব্যপার হলো তাকে(আমার নানীর ভাইকে) কিছু প্রশ্ন করা হলে কিছু বলতে পারেন না, তার কিছু মনে নেই। সবাই প্রথমে ভাবছিল চোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পটি হলো, এটা মোটেই চোর নয়, পিশাচ ছিল। আমাদের বাড়িটির পেছনে একটা বাশঝাড় আছে, সেইখানে সে থাকে। আমাদের বাসার কাওকে কোন রকম ভয় দেখায় না, ভদ্রগোছের পিশাচ। কিন্তু অনেকেই নাকি রাস্তায় দেখেছে এই পিশাচকে।

সুতরাং আমার ছোট বেলাটা ভুত না দেখেই ভুতের ভয়ে কেটেছে। এখন আমাকেও নাকি ভুতে ধরেছিল, সেই গল্প বলি, আমার ধারণা আমাকে ভুত ধরে নি, ধরেছিল একটা পরি, পরিরা নাকি সুন্দর এবং ভদ্র ছেলেদের ধরে নিয়ে তাদের দেশে চলে যায়। তারপর তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলে, তারপর সংসার শুরু করে, তাদের বাচ্ছাকাচ্চা হয়। কিন্তু আমাকে মনে হয় ধরে নিয়ে যেতে পারে নি, না পেরে ভাল করেছে, কারণ আমার জন্যে নিশ্চয় একটা মানুষ পরী অপেক্ষা করে বসে আছে (আর বলা যাবে এই গল্প, অতি গুপনীয়)। আমি একদিন ঘুমিয়েছি, আমি তখন ক্লাস ৩৪ এ পড়ি। আমার জ্বর এসেছে, বেশ জ্বর, তাপমাত্রা একশ এর উপরে। শুয়ে আছি বিছানায়। সবাই জানে, ঘরে শুয়ে আছি। এইটুকু আমি জানি, বাকিটুকু শুনা গল্প। আমি যে ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম, সেই ঘরের পেছনে একটা বড়ো আম গাছ আছে। আমি উঠে, সেই গাছের দিকে যাচ্ছি, আমার খালামনি সেটা দেখে আমার পিছু নিয়েছেন। আমি সেই গাছের কাছে এসে গাছে উঠার চেষ্টা করছি, আমি কখনো গাছে উঠিনি, উঠতে পারি না, আমি কখনো উঠার চেষ্টাও করি নি। উনি চিৎকার দিলেন। তারপর, যা হলো, আমাকে অনেক কষ্টে গাছ থেকে নামিয়ে বিছানায় শুয়ে দিয়ে প্রায় ঘণ্টা দুই পানি ঢালা হলো। তারপর আমি যখন চেতনা ফিরে পেলাম, তখন কিছু জানি না, আমার পাশে সবাই দাড়িয়ে কেন, প্রশ্ন করলাম। পরে আমি ধীরে ধীরে সুস্থ হলে সবাই বলে আমাকে নাকি ওই পিশাচটা ধরেছিল। হা হা হা

যাহোক এগুলো শুনা গল্প এবং ছোট বেলার গল্প। এবার একটু বড়ো বেলার গল্প বলি। আমি ঈদ সব সময় গ্রামের বাড়িতে করি, এবারও করেছি। আগের দিন সন্ধ্যায় এসেছি। ঈদ এর দিন সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে, ঝুম ঝুম বৃষ্টি, অসাধরণ একটা দিন। কিছুক্ষণ ছাতা নিয়ে বাইরে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখেছি। সামনে বিশাল ধান ক্ষেত। মনে অনেক আনন্দ, এই আনন্দ দেখা যায় না, শুধুমাত্র অনুভব(feel) করা যায়।

সন্ধ্যায় আমি আর আব্বু বের হয়েছি, বৃষ্টির মধ্যে, শেরপুর আসবো। আমাদের বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা পথ হেঁটে আসতে হয় স্ট্যান্ডএ। স্ট্যান্ড এসে চা খেলাম। এই দোকানে চাএর বিল আমাকে কখনো দিতে হয় না। চাএর দোকানদার আমাকে কখনো বিল দিতে দেয় না অথবা পরিচিত কারো সাথে দেখা হয়ে যায়, যিনি নিজের আগ্রহে চায়ের বিলটি দিয়ে দেয়। জিনিসটি মজার। শেরপুরে একটা মিষ্টির দোকান আছে, চারু সুইটস। এই দোকান থেকে আমি মিষ্টি কিনে থাকি, এই দোকানের ক্যাশবক্সে যিনি বসেন, এই ভদ্রলোক আমি গেলেই প্রশ্ন করবেন, আমি এখন কোথায় থাকি, কি করছি। প্রতিবারই প্রশ্ন করেন, এবং উনি আমার কাছে মিষ্টির দাম সবসময় অন্যদের থেকে কম করেন, কেন এমনটা করেন আমার জানা নেই। কিন্তু এমন ব্যপার মাঝে মাঝেই হয়। যাহোক, স্ট্যান্ড এ এসে দেখি, যাওয়ার কোন উপায় নেই। কিসে করে শেরপুর এ আসবো সেটা নিয়ে আমি আব্বু দুজনেই বেশ চিন্তিত। এমনিতে সন্ধ্যা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তার উপর বৃষ্টি। এই রোডে একসময় বাস চলতো, একটু পর পর বাস আসতো, ইদানিং অদ্ভুত একটা কারণে বাস বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যপারটা এমন হয়ে ধারিয়েছে যে, অনেক অনেক আগে এই রাস্তা ধরে গরু গাড়ি চলতো, এমন করে বলবে হবে, অনেক অনেক দিন আগে এই রাস্তায় বাস চলাচল করতো। কোন বাস নেই, সবাই সিনএনজি চালিতো অটোতে চলাফেরা করে। আর একটা গাড়ি আছে যাকে সবাই বলে বডবডি“, এই অদ্ভুত প্রাণিটাতে উঠার প্রশ্নই উঠে না, খুবই বিপদজনক জিনিস। আমি এমনিতে গাড়িতে উঠতে বিশেষ ভয় পাই। আজ কোন সিএনজি নেই। দাড়িয়ে আছি তো আছিই। অনেকক্ষণ পর একটা রিক্সা এলো, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, এই উদ্ভুত যানে উঠে বসলেই মনে হয় এখনি ভেঙে পরবে কিংবা উল্টে যাবে নতুবা বাতাসে উড়ে যাবে। কিন্তু উপায় না দেখে উঠে পরলাম। রাস্তা ভর্তি গর্ত, গর্তের মধ্যে যখনি চাকা পরে, আর অমনি মনে হয় এই বুঝি এটা উল্টে গেলো। আমরা বেশ খানিকটা পথ আসলাম এইভাবে বেশ কয়েকবার উল্টে যাওয়ার ভয় নিয়ে। আমরা নামলাম, করুয়া বাজার। এইখান থেকে অটো (সিএনজি চালিত) নিয়ে শেরপুর যাবো। বাজারে দুইটা অটো। একটাকে বললাম, সে যাবে না, কোন ভাবেই যাবে না। সেখানে আমাদের একটা পরিচিত লোকের সাথে দেখা হলো, তিনিও শেরপুর যাবেন। এক সাথে যাওয়া যায়। দ্বিতীয় যে অটো আছে, তার চালককে তিনি বললেন যাবে কিনা, অটো যাবে না। কোন ভাবেই যাবেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত উনার অটোতেই আমরা চরে বসলাম। আমরা যখন উঠলাম, উনাকে বললাম, প্রথমে রাজি হলেন না কেন। উত্তরটা হলো, “এই লোক ভাড়া কম দেয়, তাছাড়া আমার পরিচিত লোক, তাই না বলছি।হা হা। যাহোক, রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। তাকে বললাম, ধীরে ধীরে চালাতে, আমাদের কারো তাড়া নেই। এভাবে আস্তে আস্তে আমরা আসতে লাগলাম।

একটু পরেই কুড়িকাহনীয়া ব্রিজ, স্টিলের ব্রিজ, ভগ্নদশা, আমার মাঝেই মাঝেই মনে হয় এই ব্রিজটা একদিন হঠাৎ করে খুলে পরে যাবে। অনেক দিন থেকেই ভাংগা অবস্থায় পরে আছে, কিন্তু ঠিক করার নাম গন্ধ নেই, একবার আমি আর খালামনি ফিরছিলাম শেরপুর এ, তখন অটোর একটা চাকা এই ব্রিজের মধ্যে পরে গিয়েছিল, আমি খালামনি দুজনেই ব্যাথা পেয়েছিলাম।

অটোর ওয়িন্ডশিল্ড বৃষ্টির পানিতে ঘোলা হয়ে গেছে, খুব বেশি দেখা যায় না, ড্রাইভারকে বললাম পরিষ্কার করতে, ড্রাইভার বলে, ওয়াইপার নষ্ট, কি আজব। এমনিতে রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ, তারওপর ইলশেগুড়ি, অর্ধেকটা ভিজে গেছি। অটোর হেড লাইট দিয়ে বেশি দূরে দেখাও যায় না। কেন এমন প্রশ্ন করতেই ড্রাইভার সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দিলেন। ব্যখ্যাটি আমার মনে নেই। এভাবেই যাচ্ছি। একটু পর পর চাকা গর্তের মধ্যে পরে যাচ্ছে, আর আমি ভয়ে শিওরে উঠছি। এখনি বুঝি উল্টে যাবে। এর মাঝে চারটা লাইট দেখা গেলো দূর থেকে, চিন্তাই পরে গেলাম, একটা গাড়ির দুইটা লাইট থাকার কথা, দেখা যাচ্ছে চারটা লাইট। একটা গাড়ির চারটা লাইট কিভাবে হয়! ধীরে ধীরে কাছে এসে বুঝতে পারলাম গাড়ি আসলে দুইটা, এই জন্য চারটা লাইট। কিন্তু দূর থেকে অন্যকিছু মনে হচ্ছিল। পাশ দিয়ে যখন গাড়ি গুলো চলে গেলো, মনে হচ্ছিল এখনি বুঝি অটোর গায়ে লাগিয়ে দেবে, আর সাথে সাথে অটো উল্টে যাবে। এভাবে আরো বেশ খানিকটা পথ আসলাম। রাস্তা বেশ অন্ধকার। অনেকক্ষণ কোন গাড়ি আসছে না। পুরো রাস্তাজুড়ে একটা অটো। রাস্তার একপাশে বেশ খানিকটা জঙ্গল এর মতো, মূলত বাশঁঝাড়, এর একপাশে একটা ছোট্ট নদী। নদীর পাড় ঘেসেই রাস্তা। রাস্তাটি একটু বাকানো, আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, হঠাৎ করে কোন গাড়ি এসে নদীতে পরে যাবে, এই যায়গাটা বেশ ভয়ের এবং যখন এই যায়গায় আসি, আমি বেশ খানিকটা ভয় পাই। আজো পাচ্ছি, আর তখনি ধপ করে গাড়ির হেড লাইট অফ হয়ে গেল। একদম অন্ধকার, ড্রাইভার খানিকটা চালিয়ে গাড়ি বন্ধ করে দিলেন। আমি বললাম, হেডলাইট অফ করে দিলেন কেন, উনি বললেন, বন্ধ হয়ে গেছে, আমি একটু ভয় পাচ্ছি, অন্ধকারে যদি ছিনতাইকারী ধরে। আমি আর আব্বু নেমে পরলাম সিএনজি থেকে। রাস্তার পাশে দাড়ালাম যাতে করে ড্রাইভার হেডলাইট ঠিক করে। রাস্তা থেকে নদীর পানি দেখা যাচ্ছে। আমি তাকিয়ে আছি, আর ভাবছি। নানা রকম কিছু। ভয় ভয় লাগছে। তবে আমি ভিতু প্রকৃতির নয়, যেখানে ভয় পাওয়া উচিৎ সেখানে ভয় পাই, বাকি সময় পাই না। এই না পাওয়া ভয়ের মধ্যে ভুতের ভয়ও আছে, আমার খুব ইচ্ছে ভুতের সাথে কথা বলা। ভুতরা নাকি আগাম অনেক কিছু বলে দিতে পারে, আমি ভুতের দেখা হলে কিছু জিনিস আগে ভাগে জেনে নিতাম। আমি নদীর পানির দিকে তাকিয়ে আছি, হঠাৎ করে দেখলাম, পানিতে একটা নৌকা, কেও একজন নৌকা চালাচ্ছে, আমি আব্বুকে বললাম, দেখো, একটা নৌকা। আব্বু বলল কই, কই, আমি বললাম, ঐ যে। আব্বু দেখে নি, আমি তাকিয়ে আছি, কিছুক্ষণ পর দেখি আরো আরেকটা নৌকা। কিছুক্ষণ আরো একটি। আমি আব্বুকে বললাম, দেখো দেখো তিনটি নৌকা। আব্বু বলে, কোথায় তোমার নৌকা, কোন নৌকা নেই, এইখানে নৌকা কই পেলে তুমি? কি আশ্চর্য আমি তিনটি নৌকা দেখলাম। আব্বু একটাও দেখতে পায় নি। আমি এবার পেছন দিকে তাকালাম, ড্রাইভারকে বললাম, আপনার হেডলাইট ঠিক হলো, ড্রাইভার বলে, আরেকটু সময় লাগবে। আমি আবার নদীর পানির দিকে তাকালাম, কি আশ্চর্য একটা নৌকাও নেই। বৃষ্টি পরছে, বৃষ্টিতে ভিজে গেছি প্রায় পুরোটা।

তারপর ড্রাইভার হেডলাইট ঠিক করে ডাকলেন। আমরা আবার উঠে বসলাম অটোতে। কিছু দূর আসতেই একটা ব্রিজ, আন্ডার কনস্ট্রাকশান। এই ব্রিজ অনেকদিন থেকেই পরে আছে এভাবে, মাস ছয়েক আগেও এমনটা দেখেছি, কিন্তু কিভাবে কাজ এগুচ্ছে সেটি নিয়ে চিন্তা করলাম আর চিন্তা করলাম না। ব্রিজের পাশ দিয়ে নিচে একটা রাস্তা করা হয়েছে। বেশ ঢালু সেই রাস্তা। মেইন রাস্তার সারফেইস থেকে স্লোপ ২০ ড্রিগ্রি হবে, স্লোপ ৫ ডিগ্রি হলেই হাটা সমস্যা হয়ে যায়, গাড়ি কিভাবে ঠিক থাকবে সেইটাই চিন্তা করছি, সবচেয়ে সমস্যা হবে, মুখোমুখি দুইটা গাড়ি আসলে। সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেই পার হলাম। অটো অনেক কষ্ট করে রাস্তায় উঠে পরলো। মনের মধ্যে ভয় এখন যদি অটো বন্ধ হয়ে যায় কিংবা হেডলাইট আবার নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর এইভাবেই বাসায় এলাম।

বাসায় এসে আব্বু জিজ্ঞাসা করলাম, আব্বু তুমি নৌকা দেখো নি। আব্বু বলল, দেখছি, কিন্তু তুমি ভয় পাবে বলে না করেছি। সেগুলো ভুতের নৌকা ছিল।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s