বৃষ্টির নৃত্য

বৃষ্টি!! বৃষ্টি!! সন্ধ্যা হতে অল্প–বিস্তর বাকি। সারাদিন কিছু খায় নি, সুতরাং পেটের ভেতর এক ভাগিনী থাকে, কিছু সময় পরপর সে ঘণ্টা পেটায়, সে এবার অবিরাম ঘণ্টা বাজিয়ে চলছে, খাবার চাই, চাই। যদিও আমি খুব বেশি পাত্তা দেই না, না খেয়ে অলস সময় কাটিয়ে দেওয়ার একটা আনন্দ আছে। বের হলাম, আকাশ গুড়ুম গুড়ুম। এখনি বৃষ্টি নামবে, বুদ্ধিমান কেও ঘর থেকে বের হবে না, আমি বুদ্ধিমান নয়, অনেকটা পাগল পাগল। তাই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বের হয়ে গেলাম। তারপর নীলক্ষেত একটা রেস্টুরেন্ট এ পেটভরে খেলাম। খাওয়ার আনন্দই বা কম কি। পৃথিবীর সবটাই আনন্দ।তবে এই সবটাই আনন্দ সবাই বুঝতে পারে না, বিশেষ করে যারা বুদ্ধিমান এবং পুষ্টিকর। পৃথিবীতে সবাই পুষ্টিকর জীবন চায় বলে জীবনটা এতো নিরামিষ। আনন্দের জন্যে কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই। যে কোন কিছুতেই আনন্দ খুঁজে নেওয়া যায়। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, রেস্টুরেন্ট এ ভেতর থেকেই তা বুঝতে পারলাম। প্রচণ্ড ভিজতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে যখন করছে তখন না ভিজে থাকাটার অর্থ হলো আনন্দ থেকে নিজেকে ডিপ্রাইভড করা। সুতরাং ভিজে বের হলাম। কি আনন্দ আর আনন্দ। হেটে হেটে বাসায় ফিরবো। রাস্তায় তাকিয়ে দেখলাম, সবাই কেমন ব্যতিব্যস্ত, বৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করতে।কেমন জানি লজ্জা লজ্জা ব্যপার। বৃষ্টি তো সব সময় আসে না, তাকে বরণ করে নিতে হয়, বৃষ্টিতে উদ্বাহু নাচতে হয়, আনন্দ করতে হয়। কিন্ত সবাই তো আমার মতো পাগল নয়, সবাই রেশনাল। পৃথিবী বড্ডো বেশি রেশনাল মানুষে ভরে গেছে। কোন মানে হয় না। ভেবে দেখলাম পৃথিবীর মানুষগুলো খানিকটা পাগল হলেই বরং ভাল ছিল, পৃথিবী অন্যরকম হতো, অনেক আনন্দের হতো। সম্রাট শাহজাহান খানিকটা পাগল ছিলেন বলেই তাজমহল বানিয়ে ছিলেন। পাগলরা যখন যা খুশি করতে পারে, তার যখন যা খুশি তা করে ফেলার মধ্যেই না আনন্দ। যেমন ধুম করে কাওকে ভালবেসে ফেলতে পারে। অবশ্য এতে সামান্য সমস্যাও আছে। থাক সে সমস্যা। আজ আনন্দের কথাই লিখবো। হেটে হেটে বাসায় ফিরলাম। বাসার কাছে এসে আমার রুমমেটকে ফোন দিলাম। সজিব এলো। ওকে আমার ফোন, মানিব্যাগ দিয়ে বললাম, চা করো তো, আমি ছাদে যাই। ছাদে গেলাম। গিয়ে দেখি একটা ছেলে বৃষ্টিতে ভিজছে আর নাচছে। দেখে আনন্দে ভরে গেলো মনটা। যাক একজন সঙ্গি তো পাওয়া গেল। তারপর দুজন মিলে বৃষ্টিতে ভিজলাম অনেকক্ষণ। কি আনন্দ। খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল, হে ঢাকাবাসী, বৃষ্টি এসেছে বৃষ্টি, সবাই বেরিয়ে এসো ঘর ছেড়ে। সবাই আনন্দ মিছিল করো। কি আনন্দ। কিন্তু আমি কিনা খানিকটা রেশনাল, তাই চিৎকারটা শব্দ করে না দিয়ে মনে মনেই দিলাম। আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর দৃশ্যে ছোটবেলা অনেক ভয় পেতাম, কিন্তু এখন অন্যরকম আনন্দ লাগে, কি সুন্দর আকা বাঁকা আলোর ঝলক, সেই আলোতে আকাশের মেঘ দেখা যায়। তারপর গুড়ুম গুড়ুম শব্দ। অসাধারণ। এই আনন্দটা কাওকে বলতে ইচ্ছে করছিল। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে তাকে যদি বলতে পারতাম কিংবা তার হাত ধরে এক সাথেই ভিজতে পারতাম, তাহলে…. । কিন্তু সে কি বুঝতে পারে, আমি কতটা ধারণ করেছি তাকে নিজের মধ্যে। হয়তো সেও রেশনাল, আমার মতো পাগল নয়, হলে অনেক ভাল হতো, আমি নিশ্চিন্ত মনে তাকে আমার সমস্ত আনন্দই তাকে দিয়ে দিতে পারতাম তারপর উদ্বাহু নৃত্যে আকাশ বাতাস সবকিছুকেই জানিয়ে দিতাম।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s