আমি এবং আমার চা

সবারই নিজস্ব কিছু গল্প থাকে। কেও সেই গল্প গুলো অন্যের সাথে শেয়ার করতে ভালবাসে, কেও শেয়ার করতে খুব কমফোর্ট ফিল করে না। কিন্তু আমি গল্প শেয়ার করতে খুব ভালবাসি, কিন্তু গল্প বলতে পারি না। গল্প বলতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যপার। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপারটি আমি পারি না। যাহোক, আমি মাঝে মাঝে গল্প লেখার চেষ্টা করি এবং খুব জগন্য কিছু লিখে বসে থাকি। আজো সেরকম কিছু একটা লিখবো, আমার নিজস্ব একটা গল্প।

আমার এই গল্পটি হলো চা নিয়ে, আমি প্রচুর চা খাই (পান করি)। প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ গ্রাম চা পাতা, ৫০০ গ্রাম পাওডার দুধ, এবং ১২০০ গ্রাম চিনি লাগে আমার একার জন্য। সুতরাং বুঝায় যাচ্ছে আমি প্রচুর চা খাই। আমি সাধারণত নিজের চা নিজেই বানাই। আমার বানানো এই চা অতি অখাদ্য (আসলে এটি আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ট্য চা)। অন্যের বানানো চা খুব বেশি পছন্দ হয় না। এই গল্পে আমি আমার চা বানানো প্রক্রিয়াটি বলি।

সাধারণত আমি দিনে দুই থেকে তিন বার চা বানাই। ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ (আসলে এক মগ) না হলে আমার ঘুম ঘুম ভাবটা যাবে না। আমি ঢাকায় একটা মেস এ থাকি ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা মিলে। যাহোক, আমি বেশির ভাগ সময় টেবিলের সামনে আমার সুন্দর চেয়ারটায় বসে থাকি, সামনে আমার গার্লফ্রেন্ড (ল্যাপটপ) বসে থাকে। অত্যন্ত পক্ষে আমি দিনে ১২-১৬ ঘন্টা এইভাবে বসে থাকি। তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করলেও এভাবেই বসে থাকি। তো, আমি প্রথমে রান্না ঘরে গিয়ে একটা পাতিলে পানি দিয়ে এসে আবার এইভাবে বসে কাজ করতে থাকি এবং চা এর পাতিল এর কথা  ভুলে যাই। এদিকে পানি গরম হতে থাকে, গরম হতে হতে একসময় সব উড়ে যায়, আমার মনে থাকে না, একসময় যখন পাতিল পুড়া শুরু করে, আমার বন্ধুরা চিল্লাপাল্লা শুরু করে, তখন আমার মনে হয়, আমি আবার পানি দিয়ে এসে আবার ভুলে যাই। এভাবে দুইবার পানি শুকানোর পর আমি রান্না ঘরে গিয়ে বসি, না এইবার চা বানিয়ে নিয়েই যাবো, এবার পানি দিয়ে বসে থাকি রান্না ঘরে। তারপর পানি গরম হলে অর্ধেক পানি আমার মগে ঢেলে কাপটা গরম করি, বাকি পানিতে চা পাতা দেই। আমার বন্ধুদের মতে আমি যে চা পাতা দিয়ে এককাপ চা বানাই, সেটা নাকি তাদের তিনদিন চলবে, যদিও আমার বিশ্বাস হয় না, কারণ আমার ধারণা তারা আসলে চায় খায় না, চিনি যুক্ত চা রং এর গরম পানি হলেই তাদের চা খাওয়া হয়ে যায়। তারপর চা হয়ে গেলে মগের পানি ফেলে দিয়ে তাতে চিনি এবং দুধ দিই, তারপর চা এর লিকার ঢালি, হয়ে যায় আমার এক কাপ (মগ) চা। এটি আমার প্রতিদিনের ঘটনা।

তবে আমি যখন বাড়িতে যাই, তখন ঘটনা অন্যরকম হয়। বাড়িতে পানি সাধারণত শুকিয়ে যায় না, কারণ আমার এই অভ্যাস এর কথা সবাই জানে, যার জন্য পানি দেওয়ার ৭-৮ মিনিট পর থেকেই আব্বু রিমাইন্ডার দিতে থাকে। আমি অবশ্য তখন লিকুয়িড দুধ দিয়ে চা বানাই, এইটা আরো বেশি অসাধরণ।

5 thoughts on “আমি এবং আমার চা

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s