দিনলিপি

>আজকে সারাদিন ঘুমাইছি। মেজাজ খারাপ ছিল বলে ক্লাসে যাই নাই। মেজাজ খারাপটা নিজের উপর। কারণ সারারাত আমাকে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়েছে। সারারাত পরিশ্রম করে আমি ব্রাউজারে হ্যালো ওয়ার্ল্ড ছাড়া আর কিছু লিখতে পারি নাই। স্প্রিং ফ্রেমওয়ার্ক তো আরো পরের জিনিসি। টমকেট সার্ভার ইনস্টল করা লাগবে। অনেক কষ্ট করে সেটা করছি। তারপর কি ধরণের প্রযেক্ট খুলতে হবে এইটাই তো জানি না। জেএসপি এবং সার্ভলেট লাগবে, কিন্তু এগুলা নিয়ে কোন দিন কাজ করি নাই, মেথড, ট্যাগিং কিছুই বুঝি না, অন্ধের মতো, সারারাত হাতড়িয়ে সকালে শুধু মাত্র হ্যালো ওয়ার্ল্ড। সবচেয়ে বেশি বিরক্ত লাগে, যখন ফোর ও ফোর ইরর পেইজ আসে। তখন মনে হয়, লাইফটা এতো কঠিন কেন? যাহোক, বিকাল চারটায় মুন্নার কেল পেলাম। ও নীলক্ষেত আসছে। গেলাম। আমার কাছে ওর তিন হাজার টাকা। ওগুলো দিলাম। মুন্না বই কিনতে আসছে। ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ এ গেলাম। ও রাজ্যের বই কিনল। আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে আইনস্টাইন এ ইন্দুবালা নামক একটা গল্প পড়ে ফেললাম। আইনস্টাইন এর যে শেষ বয়সে টাকা পয়সার ঝামেলা চলছিল জানতাম না। তিনি বিভিন্ন যায়গায় বক্তৃতা দিয়ে টাকা উপার্জন করতেন। যাহোক এরপর কিছুক্ষণ হাটাহাটি করলাম। মুন্নার সাথে থাকতে আমার বেশ ভাল লাগে। এবং মুন্নাও আমার সঙ্গ পছন্দ করে। আমার নানা রকম বিষয় নিয়ে কথা বলি, আমি ধৈর্য্য নিয়ে তার কথা শুনি, ও তাই। আজ কথা বলছিলাম, গল্পের ব্যবচ্ছেদ ও রূপতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে। আরো নানা রকম বিষয় চলে আসে আমাদের কথা বার্তার মধ্যে। তারপর আমার কিছু সমস্যা বললাম। যেমন আমার মাঝে মাঝে কারোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে, তাকে কল/এসএমএস করার আগ পর্যন্ত মনের মধ্যে খুত খুত লাগে। আবার কল/এসএমএস করার পর, আরো বেশি খারাপ লাগে। এক ধরণের দ্বিধা দ্বন্দ্ব। এর থেকে বের হয়ে আসার উপায় কি? আরো নানা রকম সমস্যা নিয়ে আলোচনা হল। এর পর ও বলল, চলো আজিজ সুপার মার্কেট এ যায়। গেলাম। আজিজ সুপার মার্কেট এর অন্তরে রেস্তোরার লুচি বিখ্যাত। খেলাম। বেশ ভালো। এর চা-টাও ভাল। তারপর কথা বলতে বলতে শাহবাগ মোরে এসে দেখলাম এখানে সব কিছু স্তব্ধ। গাড়ি গুলা সারি ধরে দাড়িয়ে আছে, লোকজন গুলো একযায়গায় দাড়িয়ে। বুঝতেছিলাম না এই স্তব্ধতার কারণ কি। পরে অনেক্ষণ গবেষণার পর বুঝতে পারলাম, প্রধাণমন্ত্রী আসছেন। তিনি এখন বের হবেন। ঘটনাটা দেখে আমার ছোটবেলায় পড়া দৈত্যের গল্পটার কথা মনে পড়ল। দৈত্য বাগানে এলে যেমন সব স্তব্ধ হয়ে যায়, সেরকম। মুন্না বলল, আচ্ছা, প্রধানমন্ত্রীর কি বুঝা উচিৎ না জ্যাম কি জিনিস। প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেন, আর সাথে সাথে আবার সবকিছু সচল হয়ে গেল। ঘটনটা দেখার মতো। যাহোক, মুন্না যাবে জাহাঙ্গিরনগর, ও আমাকে ওর সাথে যেতে বলল, কিন্তু যাওয়ার বাসনা থাকলেও যাওয়া তো যায়না। যাহোক ওর কাছে বিদায় নিলাম। আমি যাবো ফার্মগেট। অনেক দিন পর ভাগ্যবিধাতা সুপ্রসন্ন হয়েছেন, আমি একটা টিশ্যুনী পেয়েছি। সুতরাং পড়াতে যেতে হবে। যাহোক কিন্তু হায় বাস কই। বাস নাই। আমি যখন খুব বিপদে পড়ি তখন সৃষ্টিকর্তা সবসময় আমার দিকে মুখ তুলে তাকায়। সুতরাং আমি খুব বেশি হতাশ কখনো হয়না। তো একটা মাইক্রোবাস পেলাম, সবাই হুরমুর করে উঠে গেল। সবাই উঠার পর, দেখা গেল আর একটা সিট অবশিষ্ট্য আছে, এবং ঐটা আমার জন্য। উঠলাম, এবং খুব দ্রুত ফার্মগেট পৌছে গেলাম। তারপর আরকি..দুঘণ্টার মতো পড়ালাম। তারপর আবার বাসের জন্য অপেক্ষা। খুব খারাপ অবস্থা। ২৭ নম্বর বাস নেই। কি আর করা দাড়িয়ে আছি, ভাগ্যাবিধাতা আমার ধৈর্য্য পরীক্ষা করছেন। আমি এই পরীক্ষায় পাশ বরাবরই করি। এবারও করলাম। বাস এলো, উঠে গেলাম, মজার বিষয় হলো, বাসে অনেকেই দাড়িয়ে আছে, সুতরাং আমারও দাড়িয়ে যেতে হবে, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু না, আমি সিট পেয়ে গেলাম। বসে বসে একটা উপন্যাস পড়তে পড়তে আজিমপুর চলে এলাম। এখন বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে, খেয়ে দেয়ে লিখছি।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s