>রিয়েল লাইফ জোকস.

>এটি আমার একটি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা । আমি তখন কল্যাণপুরে থাকি। সভাবতই আমি মেস এ থাকি। কারণ ঢাকাই আমার আত্নীয়-স্বজন নাই বললেই চলে। ঢাকায় একুমোডেশোন সমস্যার কথা সবাই জানে। অবশ্য যারা বাইরে থেকে হঠাৎ করে অনুপ্রবেশ করে তারা আরও বেশি করে জানে। যাহোক, আমি শেরপুর এ বসে আমার এক জুনিয়রকে দিয়ে বাসা ঠিক করিয়েছি। তো সে বাসা ঠিক করেছে ঠিক আছে। বাসা অনেক সুন্দর। বিশতলা বাসা। তো আমাদের ফ্ল্যাট হলো দশ তলায়। তখন গরমের সময়। কিন্তু দশতলায় থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও আমাদের খুব একটা সমস্যা হয় না। সবচেয়ে ভাল লাগে রাতের বেলায়। বেলকনিতে বসে আকাশ দেখার মজায় আলাদা। দূরে ভবনগুলোর আলো তারার মতো জ্বল জ্বল করে। আকাশে বিমান চলে। সব মিলে এক অতি অসাধারণ একটা পরিবেশ। ফ্ল্যাটটাও অনেক সুন্দর। সবকিছু আধুনিক। রান্নঘরটা আমার বেশি ভাল লেগেছিল। কারণ আমি চা পানে অভ্যস্থ। সুতরাং আমি যেখানে থাকি রান্না ঘরটা আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি সুবিধা হলো নিড়িবিলি। একদম নীরব। দরজা জানালা বন্ধ করে দিলে মনে হবে বাইরের দুনিয়ার সাথে কোন যোগ সুত্র নাই। যাহোক এতো গেল সুবিধার কথা।
অসুবিধার কথা এখন বলি।
প্রধান অসুবিধা হলো এর লিফট নেই। ভবন আন্ডার কন্সট্রাকশান। আমাদের প্রতিদিন দশতলা সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়।
আরও বেশকিছু অসুবিধা ছিল, আমার মনে হয়, এটার তুলনায় বাকি গুলো নগন্য। যেমন ফ্ল্যাটটিতে মোট তিনটা ওয়াশরুম ছিল। আমি যে রুমে থাকতাম তার সাথে এটাস্ট ছিল একটি। কিন্তু এটাতে মাঝে মাঝে পানি থাকতো না। হঠাৎ করে পানি চলে যেত। যদিও ওয়াশরুমটা অনেক সুন্দর ছিল। আমার মনে হয় সবচেয়ে একটা ফ্ল্যাটএর সবচেয়ে সুন্দর যায়গা হওয়া উচিৎ এর ওয়াশরুম। আমার হাই কমোড পছন্দের হলেও এটি আমি ব্যবহার করতে পারতাম না। কখন পানি চলে যায়। কিন্তু অন্য দুটিতে সবসময় পানি থাকতো।

যাহোক, তো আমাদের প্রতিদিন দশতলা কষ্ট করে উঠতে হতো। আমার সাথে থাকতো দুই জুনিয়র। ওদের একজন এখন চিনে, অন্যজন কোথায় জানি না। তো প্রতিদিন যখন আমরা সিড়ি দিয়ে উঠতাম তখন আমি নানা রকম গল্প বলতাম ওদের। যাতে করে একটানে উঠা যায়। এদের মধ্যে একটি গল্প এরকম-
আমেরিকায় নিউয়র্ক এ একটা ফ্ল্যাটে এক আমেরিকান, এক ইন্ডিয়ান এবং এক বাংলাদেশি একসাথে থাকে। তো তাদের ফ্ল্যাট হলো ১২০তলায়। লিফট ছাড়া অন্য কোন উপায় নাই। তো একদিন সকাল বেলায় ওরা যে যার মতো কাজে বের হয়ে গেছে। সারাদিন কাজ করে রাত্র ফিরছে। এই সময় সবার সাথে গ্রাউন্ডফ্লোরে দেখা। একটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যা হলো বৈদ্যুতিক গুলোযোগের জন্য লিফট বন্ধ হয়ে গেছে।
এখন কি করা। তো তার সিদ্ধান্ত নিল যে তারা সিড়ি দিয়ে উঠে যাবে আজ। যাহোক দশতলা পর্যন্ত উঠার পর মনে হলো তাদের পরনে অনেক কাপড় চোপড়, পায়ে জোতা, হাতে ব্যাগ এই গুলা বহন করে নিয়ে যাওয়ার কোন মানে হয় না। তো তারা সবকিছু দশতলায় রেখে গেল। আমেরিকানটি অবশ্য প্রায় নগ্ন হয়ে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু তারা নিষেধ করলো। যাহোক এভাবে তারা সিড়ির পর সিড়ি উঠতেছিল। তো আমেরিকানটি হঠাৎ করে বলল, আচ্ছা, আমার গল্প করে করে যাই তাহলে ভাল হয়। এই বলে সে একটা খুব রগরগে গল্প শুরু করলো। যাহোক গল্প বলতে বলতে তারা মোটামুটি ৫০ তলা পর্যন্ত এসে পরল। এবার ইন্ডয়ানটির গল্প বলার পালা। সেও গল্প শুরু করলো। তার গল্প শেষ হলো ৯০ তলায় এসে। এবার বাংলাদেশিটির বলার পালা। কিন্তু তার মাথায় কোন গল্প নেই। যাহোক সে যা বলল তা হলো, “আমি আর কি গল্প বলবো, তোমরা অনেক সুন্দর গল্প বললে। আমার মনে হয় আমরা সবাই আমাদের ফ্ল্যাটের চাবি দশতলায় রেখে এসেছি। “

এভাবে আমি প্রতিদিন একটা করে গল্প বলতাম। আর দশতলা উঠে যেতাম। আমাদের খুউব বেশি কষ্ট হতো না। এই ফ্ল্যাটে আমি তিনমাস ছিলাম। অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছিলাম এই তিনমাস। বিশেষ করে মনির ভাই, আমির, রাজু ভাই, এদের কে ভুলা যায় না। আচ্ছা কল্লোল ভাইয়াও এখানে ছিল। পরে আমি ওনার সাথে এখান থেকে নেমে যাই। সময় গুলা সত্যিই অনেক মজার ছিল। এখন খুউব মিস করি।