ঘুরে এলাম, অনন্য কিছু সময় কাটালাম।

ঘুরে এলাম, অনন্য কিছু সময় কাটালাম।
মনটা একটু আচানক ছিল। কিছু ভাল লাগছিল না। কি করবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কি করা যায়। কোন কিছুতে মনযোগ বসাতে পারছিলাম না। এর মধ্যে বাসায় আব্বু এসেছে। বৃহস্পতিবার রাতে আব্বু বাসায় ছিল, শুক্রবার চলে গেছেন। তো, আব্বুকে সকালে ৯টায় বাসে তুলে দিয়ে বাসে ভাবছি। কি করা যায়। হঠাৎ মনে হলো আচ্ছা কল্লোল ভাইয়ার বাসা থেকে ঘুরে আসি। অনেকদিন যায় নাই। দেখাও হয় না। তো কল্যাণপুর আসলাম। এসে হঠাৎ করে মনটা চেঞ্জ হয়ে গেল। ঘুরতে বের হবো। তো হলাম। রাজশাহীর বাস এ উঠে বসলাম। মজায় লাগছিল। তিনশ টাকা দিয়ে টিকিট কিনলাম। মজার বিষয় হলো আমার সাথে কিছুই নাই। আমি তখনও জানি না, যে আমার কাছে টাকা নেই। বাসায় যা পরে ছিলাম, তাই নিয়ে বের হইছি। পরনে শীত বস্ত্র বলতে একটা জাম্পার এবং জিনস প্যান্ট। পায়ে স্যান্ডেল। আর কিছু নাই। বাসে উঠে পকেটে হাত দিয়ে দেখি,আমার পকেটে মাত্র আর বাকি ১৫০ টাকা আছে। মাহায় বাজ!!!! যাহোক,আপাতত টাকার চিন্তা বাদ। আগে কোথাও যাই, তারপর চিন্তা করা যাবে। মনে মনে বরং বের হওয়ার জন্য একটা যুক্তি বের করি।

আমার হঠাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটা লাইন মনে পরে গেল।
ইহার চেয়ে হতেম যদি
আরব বেদুইন
চরণ তলে বিশাল মরু
দিগন্তে বিলীন।
ছুটতে ঘোড়া উড়ছে বালি
জীবন স্রোত আকাশে ঢালি।
হৃদয় তলে বহ্নি জালি
ছুটছে নিশিদিন।

অবসাদ গ্রস্থ বাঙালী জাতিকে জাগাবার উদ্দেশ্যে দুরন্ত আশা ব্যক্ত করেছিলেন। জাতি হিসাবে আমরা কেমন তার পরিচয় একশতক আগে পেয়ে গেলেও এখনো আমরা নিষ্প্রাণ আগের মতনই রয়ে গেছি। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা আঁটসাঁট হয়ে ঘরের কোণে বসে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কখনো মনের পর্দায় ভাসে না, নজরুলের সেই পঙক্তিমালা , “থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগৎটাকে……।”

সৃষ্টিকর্তা তাঁর অকৃপণতা প্রকাশের জন্য চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে কতনা মুক্তা প্রবাল। অথচ সেটা মূল্যবান জেনেও হাতে তুলে নিতে নারাজ। সৃষ্টিকর্তা শুধু মাত্র মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যকে বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তৈরি করেছেন যতসব চিত্তাকর্ষক নির্ঝরিণী। অথচ চোখ তুলে দেখার মতো কষ্টটা আমরা মেনে নিতে পারি না। অবুঝ শিশুর মতো ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে শ্রান্ত-ক্লান্ত। কার্লসাগান বলেছেন,” আমরা প্রত্যেকে কসমিক ট্রাভেলার”
প্রতিনিয়ত ছুটে চলছি মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। অথচ এই তত্ত্বটা যেন আমার কাছে কতটাই অরণ্যের রোদন। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব। আমাদের পৃথিবী আসা উপলক্ষে চলে কতনা আরম্ভরতা। কোন উৎসে সৃষ্টি হয়ে প্রকৃতির আনুকূল্যে একটি থেকে বারবার বিভাজিত হয়ে ইটের পর ইট সাজিয়ে অট্টালিকা গড়ার মতোন আমরা ধীরে ধীরে হয়ে উঠি বুদ্ধি বৃত্তিক প্রাণিতে। মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই গতিশীল। তবে আমি কেন সময়ের পেক্ষিতে ঘরকোণো ব্যাঙ হয়ে থাকবো। আমার মাঝে থাকবে গতিশীল ফ্লাইং সসারের মতো উদ্দাম স্বপ্ন। ছুটে চলার গভীর আত্ম প্রসাদ। ভ্রমণলীলায় নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে চিত্তকে ভরিয়ে দেব গভীর আত্মপ্রসাদ। মনের ইচ্ছেতে ছুটে যাবো সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে কিংবা শালবন বিহারে। সেন্টমার্টিনের সমুদ্রে নেমে খেলা করবো গাঙচিলদের সাথে, মনের অবসাদ দূর করবো রমনার বটমূলে বসে, কিংবা সংসদ ভবনের ক্রিসেন্ট লেকে পা ভিজিয়ে।

“প্রান্তরের পারে চলে আলেক আলেয়া
তার মাঝে আমার এই নিশীথের খেয়া
চলবে একা ভেসে
স্বপ্নাবিষ্ট মৌন অভিসারিকার বেশে।”

এইসব নানা রকম কিছু ভাবছি। আর জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছি। আমার সরিষা ক্ষেত, কলাই, পেয়াজ ক্ষেত দেখতে খুব ভাল লাগে। বিশেষ করে সরিষার হলুদ ফুল দেখতে দেখতে মনটায় অন্যরকম ভাল লাগা ভরে গিয়েছিল।
পেঁয়াজের ছোট ছোট সুবজ নলাকার পাতা গুলো আমার বেশ ভাল লাগে।
নানারকম কিছু ভাবছি, আর জানালার দিকে তাকিয়ে আছি। একসময় যমুনা ব্রিজ এ এস পরলাম। নদী শুকিয়ে চারপাশে চর পরেছে। মাঝ খানে নৌকা দেখলাম দু একটা। খুব ভাল লাগল। আমারও খুব ইচ্ছে করছিল নৌকা তে উঠতে। কিন্তু কি আর করা। এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পরেছি। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার গন্তব্যের কাছে চলে এসেছি। মতিহার। আমার এক বন্ধু থাকে। বাস স্টপে এসে কল দিলাম। ও কাছাকাছিই ছিল। ও আমাকে দেখে তো অবাক। সে কখনোই ভাবতে পারিনি, আমি আসতে পারি। আমাকে অনেক বার আসতে বলেছে, কিন্তু কখনোই আমার যাওয়া হয়ে উঠেনি। আজ হঠাৎ করে চলে এলাম, ও ঠিক বিশ্বাসই করতে পারছে না। তারপর ওর রুমে গেলাম, ফ্রেশ হলাম। তারপর কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম। তারপর রাত দশটার মাঝেই ঘুমিয়ে গেলাম। বাহঃ এতো ভদ্র আমি। রাত দশটার মধ্যে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে দেখি আমার বন্ধু নেই। ক্লাস করতে বেড়িয়ে গেছে।
যাহোক নিজের মতো বেড়িয়ে ঘুরলাম কিছুক্ষণ।

একা একা বেড়ানো বেশ মজার। নিজের ইচ্ছে মতো যা খুশি করা যায়। দুইজন থাকলে যা হয়, মতের মিল হয় না, আমি এক যায়গায় যেতে চাই, সেই যায়গা সে যেতে চায় না। এই সব। আর একা এক থাকলে অনেক মজা। সঙ্গী করার মতো অনেক কিছু পাওয়া যায়। পাখির কাকলি, আকাশ, বাতাস, গাছগাছালি। আরও কতরকম মানুষ। যেকোনো একজনকে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধু বানিয়ে নেওয়া যায়। যেমন একজন রিকশাওয়ালা। তার সাথে বেশ খানিকক্ষণ কথা বললাম। চায়ের দোকানদার। ভাল বন্ধু। অবশেষে একজনকে পেলাম, যার নাম সুমন। সাংবাদিকতা এবং গণসংযোগ এর ছাত্র। ওর সাথে গল্প করলাম অবেক্ষণ। এর মধ্যে একটা দুঃসংবাদ শুনলাম। অণু সুইসাইড করছে। অণুর কথা অনেক শুনেছি আমার বন্ধুটির মুখে। ও আচ্ছা আমার বন্ধুটি হলো আপেল। আপেলের কাছে অণুর কথা শুনেছি অনেক বার। অণু আপেলের অনেক ভাল বন্ধু ছিল। অণু আপেলের কেমন ভাল বন্ধু ছিল সেটা পরে বলি। অণু যা করেছে তা হলো, চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপীয়ে পরেছে। চেহারার কোন অংশ বাকি নেই। কারণ শেষ পর্যন্ত কারণ হিসেবে যা শুনলাম, আপেল, কুশল এদের ভাল বন্ধু ছিল অণু। ওদের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। অভিমানের কারণ ছিল, আপেল কুশল দুই জনই অন্য দুইটা মেয়ের প্রেমে পরে গেছে। এইটা ও সহ্য করতে পারে নাই।
আমি আর আপেল দুপুরের খাওয়া খেয়ে একটু শুয়েছি। এই সময় আপেল একটা ফোন এলো। ফোনে আপেল শুনল, আপেলের ডিপার্টমেন্টের একটা মেয়ে সুইসাইড করেছে। আপেল লাফ দিয়ে উঠে বলে, আমি সিউর এই কাজটি অণু করেছে। তো আপেল সাথে সাথে দৌড়ে যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে গিয়ে লাসের অবস্থা দেখে সাথে সেন্সলেস হয়ে যায়। যার দরুন ওর কিছু ঝামেলা হয়েছে। সবাই ধারণা করছিল আপেলের জন্যই অণু সুইসাইড করেছে। কিন্তু শেষএ আপেল ছাড়া পায়, কারণ অণুর ফোনের লাস্ট ডায়াল নাম্বার আপেলের ছিল না, কুশলের নাম্বার ছিল। আর সবাই বলে, আপেলের নার্ভ দুর্বল এই জন্য সেন্স লেন্স হয়ে পরে গেছে। যাহোক আপেলের অবস্থা খুব খারাপ। ওরা সাথে সাথে লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে দিল। ওরা চলে গেলে লাশ নিয়ে ফরিদপুর এ। আমি আবার একা। একা একা ঘুরার মজা খুব আমি বলেছি। সুতরাং আবার ঘুরতে বের হলাম। রাকিব নামের এক অথর্বকে পেয়েছিলাম। ভদ্রলোক সিএসসি তে পড়ে। কিন্তু তার মাঝে সিএসই এর কোন বৈশিষ্ট্য দেখলাম না। তো উনার সাথে খুব বেশি কথা হয়নি। তার পরে পেয়ে গেলাম, এক মজার মানুষকে। শুভ্রত ভাইয়া। অনেক মজার। উনার সাথে প্রায় আড়াই ঘণ্টা কথা বললাম। ভাইয়া সিএসিই তে মাস্টার্স করছে। উনার সাথে নানা বিষয়ে কথা হলো, আমার জ্ঞানের ঝুলি একটু বাড়ল কিন্তু ওটা ধর্তব্যের মধ্যে না ধরলেও অনেক মজা পেলাম। ভালই লাগল। এভাবে এখানে সেখানে নানা যায়গায়, নানা রকম মানুষের সাথে মিশে সারাদিন বেশ ভালই কাটল। হাঁটলাম প্যারিস রোড ধরে। টুকিটাকি, স্মৃতি সৌধ এই সব। আর নানা রকম যায়গা। সব গুলো আমার মনেও নেই।

এক পর্যায়ে মিলির সাথে দেখা হলো, মিলির সাথে স্কুলে এক সাথে পড়েছি। ও বায়ো কেমিস্ট্রিতে পড়ে। ও কিছুক্ষণ কথা বলে কিছু ফ্রি উপদেশ দিল-”মদন! বাপ মা এই কাম করতে পাঠাইছে.? যে কাম করতে পাঠায়েছে ওটা কর।” এইটা বলে ওর হলে চলে গেল। আর দেখা পাইনাই ওর।

এই খানের খাবারের দাম খুব কম হলেও মান খুব বেশি ভাল না। যাহোক খাবার দাবার নিয়ে ভাবলে চলবে না। কারণ আমার পকেটে আছে সাকুল্যে ১৫০ আর কিছু উদ্বৃত্ত ভাংতি টাকা ।

সুতরা এতো কিছু ভাবলে চলবে না। রাতে এসে আপেলের টেবিলে বসলাম। আর লিখতে শুরু করলাম… অনেকদিন কিছু লিখি না, লেখার বাসনা থাকলেও হয়ে উঠে না। আজ আমার অনেক অবসর। তাই লিখতে বসলাম। আজ অনেকদিন টেবিল চেয়ারে বসলাম। টেবিলে অনেক গুলো বই। পড়াশোনা করার এতো আয়োজন দেখে আমার নিজেরও খুব পড়তে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কি পড়বো। এই বই গুলো আমার বুঝার সামর্থ্যের বাইরে। হিউম্যান ফিজিওলজি, ফার্মাকগনসি পড়ে আমার কোন লাভও হবে না। অণু আত্মহত্যা করছে আজ পৌনে তিনটায়।

কেমন ভাল বন্ধু তার একটা নমুনা বলি।
আপেলের টেবিলের উপর একটা রুটিন দেখেছিলাম, যেটি অণুর হাতের লেখা।

শনিবার গোসলে শ্যাম্পু + রাতে দাঁত ব্রাশ
রবিবার x + রাতে দাঁত ব্রাশ
সোমবার গোসলে শ্যাম্পু + রাতে দাঁত ব্রাশ
মঙ্গলবার x + রাতে দাঁত ব্রাশ
বুধবার গোসলে শ্যাম্পু + রাতে দাঁত ব্রাশ
বৃহস্পতিবার x + রাতে দাঁত ব্রাশ
শুক্রবার গোসলে শ্যাম্পু + দাড়ি কামনো + রাতে দাঁত ব্রাশ

বাইরে বেরুলে অবশ্যই বডি স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাথে সাথে পানি দিয়ে মুখ ধুতে হবে। মুখ ধুয়ে ই-লোশন + পাউডার লাগাবে।
প্রত্যেক শুক্রবার সকালে নিজের ময়লা কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করবে।”
আপেলের এই বন্ধুটি আজ পৃথিবীতে নেই। চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপীয়ে পরে আত্মহত্যা করছে। আপেলের কাছে অণুর কথা অনেকবার শুনেছি। আপেলের শ্যাম্পু কিনতে মনে থাকতো না বলে, সে আপেলকে শ্যাম্পু কিনে দিত। আপেলের ক্লাসে পানি পিপাসা লাগে বলে, ওর জন্য পানি নিয়ে যেত। আর অনেক কিছু।
আমি অবেক্ষণ ভাবলাম। আত্মহত্যা মানুষ কেন করে। এর জন্য অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, মানুষ সব সময় মৃত্যুর মুখোমুখি হতে আনন্দ পায়। এক অন্যরকম আনন্দ। মৃত্যু ব্যপারটাই আসলে আনন্দের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ মরতে পারে না কারণ, কিছু মোহ, কিছু বোধ, পৃথিবীর প্রতি তার টান, ভালবাসা, এই সব তাকে ধরে রাখে। এই জন্যই মানুষ বেচে থাকে। কেউ কেউ এইসব বোধকে অতিক্রম করতে পারে। যেমন পেরেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। আমি মাঝে মাঝে এরকম ভাবি। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে চলন্ত ট্রেন এর উপর লাফিয়ে পরতে। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে। একটা উদাহরণ দেই। মানুষ যখন ছাদে যায়, তখন সবসময় রেলিং এর কাছে এসে দাড়ায়। এখানে পরে যাওয়ার ভয় আছে। তবুও মানুষ দাড়ায়। আমারও এইরকম অনুভূতি হয়। অণু হয়তো সেই আনন্দ নিতে গিয়েছিল। অনেক সাহসী মেয়ে।

পরদিন সকালে ভোরে এ আমার ট্রেন। সকাল ছয়টায় উঠে ট্রেন স্টেশনে এসে দাঁড়ালাম। সিক্লসিটি বন্ধ। হায়, বাস এ যাওয়ার মতো টাকা আমার কাছে নাই। পরে অবশ্য ভরসা পেলাম, স্পেশাল একটা ট্রেন ঢাকা যাবে। ঐটার টিকিট কেটে বসলাম। তারপর ট্রেন ছুটতে শুরু করলো। বেশ ভাল লাগছিল। চারদিকে আবার সেই সরষে ক্ষেত। পেয়াজের মাঠ। মাঝে ছোট ছোট নালা নদী। ব্রিজ উপর দিয়ে ট্রেন যখন যাচ্ছিল ভালই লাগছিল। ট্রেনে ছুটে চলছে। এদিকে হঠাৎ মনে হলো আমার ক্ষুধা লাগছে। কি আর করা। কিছু করার নেই। কিছুক্ষণ পর যখন একটা স্টপেজ আসল, তখন দেখলাম কিছু সিঙ্গারা বিক্রি হচ্ছে। আমার পাশে বসছিল একটা আপু। থার্ড ইয়ারে পড়ে, ইসলামি স্টাডিজ এ রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে। আপু অনেক গুলো সিঙ্গারা কিনলেন। সম্ভবত আমার জন্যেও। পরে আমাকে খাওয়ার জন্য বললেন। আমি অবশ্য তখনো তার সাথে কথা বলিনি। কিন্তু খেতে আপত্তি করলাম না। কারণ ক্ষুধা লেগেছিল।

তারপর ট্রেন আবার চলতে শুরু করলো। ট্রেন যখন যমুনা সেতুর উপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন অদ্ভুত লাগছিল। আমি আমার সিট থেকে উঠে অন্য সিটে গিয়ে বসলাম। কারণ আমার সিট জানালার কাছে ছিল না। তারপর দেখলাম ট্রেনে অনেক গুলা সিট ফাকা। একটাতে গিয়ে শুয়ে পরালাম। আর বেশ ঘুম হলো। ঘুম থেকে উঠে দেখি ট্রেন থেমে আছে। অনেক্ষণ ধরেই থেমে আছে। কেন..? কারণটি বুঝলাম না। প্রায় এক ঘন্টার মতো থেমে থাকল। আবার চলতে শুরু করলো । মোবাইলে যায়গাটার নাম দেখলাম মির্জাপুর। হেসে ফেললাম।
তারপর আবার ট্রেন যাত্রা শুরু করলো। ঝামেলা হলো আর একটু দুরে এসে। একটা স্টেশনে এসে। আজ যে বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিন, এইটা জানা ছিল না। সবাই ইচ্ছে মতো ঝুলে ঝুলে, ট্রেনের উপরে, ছাদে ঠেলে ঠেসে যাচ্ছে।আমি আমার ছিটে এসে বসলাম। কারণ সিট হারনোর ভয় ছিল। যে যেভাবে পারছে উঠছে।
তখন আপুর সাথে কিছু কথা হলো। এহহে আপুর নাম জিজ্ঞাসা করা হয়নি।
তারপর অনেক কষ্টে পাঁচটার দিকে ট্রেন ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে এসে থামল।
যাক এবার নামা যাক। আমার সামনের সিটে বসেছিল, দুই বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধা। তাদের নামতে সাহায্য করলাম। প্রচুর ভীর।
তারপর সোজা সিএনজি। বাসায় এসে টাকা দিলাম। এই হলো আমার ঘুরাঘুরি।

এখন পরামর্শ হলো-
১. ঘুরতে বের হতে হলে কখনো আগে থেকে প্ল্যান করা যাবে না।
২. হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৩. পুরাপুরি ঘুরার আনন্দ পেতে হলে অবশ্যই একা বের হতে হবে। মন যেদিকে চায় ঠিক সেই দিকে।
৪. বেশি টাকা পয়সা নিয়ে বের হলে মজাটাই মাটি। একদম যত কম করে নিয়ে যাওয়া যায়। পারলে টাকা না নিয়ে বের হওয়া। (আমি ৪৫০ টাকা নিয়ে তিনদিন থেকে এলাম।)
৫. যতটা সম্ভব মজা করতে চেষ্টা করা। মন বিগড়লেই বেড়িয়ে পরা।

আচ্ছা আমি তো মতিহারের বর্ণনা দিতে ভুলে গেছি।… আচ্ছা পরে হবে একদিন……

One thought on “ঘুরে এলাম, অনন্য কিছু সময় কাটালাম।

  1. >আমার প্রথম কথা হচ্ছে, অধূমপায়ীদের ঘুরাঘরিতে তেমন আনন্দ নেই। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমার বের হতে হলে ধোঁয়া খরচ অবশ্যই নিতে হবে। তৃতীয়ত, বোকা মেয়েটার জন্য আমার মোটেও কষ্ট হচ্ছেনা। চতুর্থত, বাংগালির পারিবারিক বন্ধন অনেক বেশী শক্ত আর 'restrictive'। যদি তুই পুরোপুরি এবং প্রকৃত অর্থে মুক্ত হতে চাস তবে তোর পরিবারকে ছেড়ে দিতে হবে। এই ধরনের হঠাৎ বেরিয়ে পড়া এক ধরনের পলায়ন। যাহোক, আমি মাঝে মাঝে পলায়ন পছন্দ করি।ভাল লাগল তোর লেখা।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s