>আমার আমি

>হিম হিম শীতে আজ একটু অন্যরকম লাগছে। মনের মাঝে কোথাও হিম ভারি কোয়াশা জমাট ধোয়ার মতো করে উড়ে বেড়াচ্ছে। কিছুই ভাল লাগছে না। ভাল লাগা আর না লাগার দুইটার মাঝামাঝি একটা দ্বন্দ্বময়,সঙ্ঘাতময় অবস্থা বিরাজ করছে মনের মধ্যে। মনটা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। আর প্রতিনিয়ত দুজন ঝগড়া করে যাচ্ছে সমান তালে। অনুভূতি গুলোকে কেমন ভুতা মনে হচ্ছে। চোখের মাঝে এক ধরণের শূণ্যতা। ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, কি হচ্ছে আসলে আমার মাঝে।

শীতের প্রকোপটা একটু বেড়েছে বটে। আমি অবশ্য সারাদিন কম্বলের নিচ থেকে বেড় হইনি। বাইরের অবস্থা কেমন ছিল জানি না। ইদানিং নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাইনা। বেপারটা এরকম হয়ে দাড়িয়েছে,এক সপ্তাহ যদি আমার ক্লাস বন্ধ থাকে,আশাকরি এই সাতদিন আমি ঘর থেকে বের হবো না।
আমার সব কিছু এলোমেলো। নিজেও এলো মেলো। লিখতে ভালবাসি। লিখে যাই। এই লেখার কোন উদ্দেশ্য নাই। লেখার আনন্দে লেখা। ব্যপারটা রবীন্দ্রনাথের ঘোড়া গল্পর মতো। ঘোড়া যেমন ছুটার জন্য ছুটে। তার ছুটার পেছনে কোন উদ্দেশ্য নেই। আমার লেখার পেছনে কোন উদ্দেশ্য নেই। এমনি কি আমি আগে থেকে জানি না আমি কি লিখতে যাচ্ছি।

এখন আমি কলমের স্বতঃস্ফূর্তকে মেনে নেব। লেখার আনন্দে লিখে যাবো্। অবচেতনে কচি ঘাস তুলার মতো। মাঝে মাঝে ভাবি আমি বুঝি লিখি অবচেতনে। কারণ সচেতন মনে আমার লেখা হাস্যকর লাগে। অবশ্য আমি নিজে অনেকটা হাস্যকর। আমার কাজ কর্মও হাস্যকর। এমনকি আমার নামটাও হাস্যকর। এই হাস্যকরটার পজিটিভ নয়। কারণ এই হাস্যকর কারো ভালো লাগে না। ভাললাগার মতো কোন বৈশিষ্ট্য আমার অবশ্য নেই। যাহোক আমার লেখা মানের দিক থেকে জগন্য তুচ্ছ,নিম্নমানের। তবুও আমি সেটাতে আনন্দ পাই। নিজের আনন্দ। মস্তিষ্ক নামক স্লট মেশিন থেকে যে কিছু একটা বের হচ্ছে এতেই আমার অনেক।

মানুষ হিসেবে আমি কেমন এই জিনিসটা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। কিন্তু কোন কিছুই বের করতে পারি নিই সঠিক করে। কেমন আমি। মাঝে ভাবি আমি বুঝি লজিক্যাল,প্র্যকটিক্যাল। আবার ভাবি,আমি আসলে সম্পূর্ণই ইমোশনাল। কোনটা সঠিক..? জীবন সম্পর্কে এক সময় গভির ভাবে ভেবেছি। মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কি এই প্রশ্নটা আমকে অনেকে ভাবিয়েছে। কিন্তু কোন সঠিক উত্তর পাইনি। জীবন কি শুধুই যাবনের জন্য…?
আরেকটি জিনিস আমাকে অনেক ভাবিয়েছে। সেটি হলো ভালবাসা। এই শব্দটিকে এক সময় আমি রিচুয়াল মনে করতাম। হাস্যকর মনে হতো। কেউ কাওকে ভালবাসি বললে সেটাকে নিছক ফরমালিটি মনে হতো। কারণ আমি কখনো এর স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারি নি। মানুষ মানুষকে ভালবাসে। কিন্তু কি সেই ভালবাসা। যার জন্য একজন অকাতরে নিজেকে শেষ করে দেয়,নিজেকে নিংড়ে প্রমাণ করে তার ভালবাসার পরিধি। এই সব প্রশ্ন মাঝে মাঝেই মনের দেয়ালে খুঁচা দিত। কিন্তু আজ এর বেশ কিছুটাই জানি। পৃথিবী আজো টিকে আছে শুধু মাত্র ভালবাসার কারণে। তবে মাঝে মাঝে মনে হতো, ভালবাসা কি নিছক এক মানবিক বোধ?এখনো হয়। কারণ ভালাবাসার মধ্যে আর একটি বোধ বাস করে,সেটি হলো অধিকার করা। যাকে ভালবাসি তাকে আমার করতেই হবে এরকম একটা বোধ সবার মাঝেই কাজ করে। আমি এর স্বরূপ দেখেছি। কাওকে ভালবাসলে তাকে পাওয়ার জন্য মানুষ কি করতে পারে। মা ছেলেরে ভালবাসাই ধরা যাক। মা তার ছেলেকে তার সব কিছু দিয়ে ভালবাসে। কিন্তু কখনোই ছেলেকে হারাতে চায় না। এই জিনিসটা সব কিছুর জন্যই প্রযোজ্য।

আর কিছু প্রশ্ন প্রায়শই আমার মাঝে উকি দেয় যার অর্থ আমি পাইনা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমি কি এবং কেন..?
মাঝে মাঝে ভাবি আমি যদি না থাকতাম তাহলে জগৎ সংসারে কিই বা ক্ষতিই হতো.? কি দরকার ছিল এই আমার। আমি সম্পূর্ণই অর্থহীন। কোন অর্থনেই আমার।
এই সব অর্থহীন অর্থময়তা আমাকে মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত করে। ভাল লাগে না তখন। বেচে থাকতেই ইচ্ছে করে না। বড় বিষণ্ন লাগে। তখন আমাকে সবাই পেসিমিস্টিক বলবে জানি। কিন্তু আমি সব সময় অপটিমিস্টিক হতে চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীর কারো পক্ষে হয়তো সব সময় অপটিমিস্টিক হওয়া সম্ভব না। কারণ কখনো না কখনো শূণ্যতা বাসা বাধবেই মনের মাঝে। এক গ্লাসে অর্ধেক পানি আছে। এক জন লোক তখনি বলবে গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ যখন সে সব দিক থেকই পূর্ণ। কিন্তু যার অপূর্ণতা আছে সে স্বাভাবিক ভাবেই বলবে গ্লাসটি অর্ধেক খালি।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s